সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। কোনো কোনো স্থানে জোয়ারের তোড়ে দেখা দিয়েছে নতুন ভাঙন। পাউবো-২-এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামে গতকাল ঈদের সকালে প্রায় ১৫০ ফুট এলাকাজুড়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এদিকে হঠাৎ বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নিরানন্দে পরিণত হয়েছে তাদের ঈদের আনন্দ। স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন স্থানে বিকল্প রিং বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসী।

বিছট গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জিয়ারুল ইসলাম জানান, ঈদের নামাজের সময় তারা খবর পান যে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ তৈরির চেষ্টা করেন। তবে ৩ ঘণ্টার চেষ্টায়ও বাঁধ রক্ষা সম্ভব হয়নি। এতে বিছট, বল্লভপুর, নয়াখালী, আনুলিয়াসহ ১০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। বাড়িঘর ও মৎস্য খামার প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শওকত হোসেন জানান, আব্দুর রহিম সরদারের চিংড়ি ঘেরের বাসার কাছ থেকে প্রায় ১৫০ ফুট বেড়িবাঁধ হঠাৎ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না গেলে পার্শ্ববর্তী খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নও প্লাবিত হতে পারে।

জানতে চাইলে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রায় ১৫০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। তবে এলাকার হাজার হাজার মানুষ নিয়ে নতুন ভাঙন আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জোয়ারের প্রবল স্রোতের কারণে আটকানো সম্ভব হয়নি। জোয়ারের পানি এখন লোকালয়ে প্রবেশ করছে। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ দ্রুত বাঁধটি মেরামত করা না গেলে পাশের খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নেও পানি প্রবেশ করবে বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায় বণিক বার্তাকে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বেড়িবাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠানো হয়। স্থানীয় গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেখানে কাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।