দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে নব্বইয়ের দশকে মুন্সিগঞ্জে প্রতিষ্ঠা হয় শিল্পকলা একাডেমি। ২০০৭ সালে অডিটোরিয়ামসহ আধুনিক সুবিধাসংবলিত একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে এরপর প্রায় দুই দশকের মধ্যে আর সংস্কার করা হয়নি ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এরই মধ্যে বিকল হয়ে পড়েছে সাউন্ড সিস্টেম। ভেঙে গেছে চেয়ারগুলো। নেই পর্যাপ্ত ফ্যান। বিকল হয়ে পড়েছে জেনারেটর। আলোকসজ্জার ঘাটতিসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত একাডেমিতে ব্যাহত হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চা।

শিল্পীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাগুলো থেকে গেলেও সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। একাডেমির অডিটোরিয়াম ব্যবহার করতে হলে বাইরে থেকে অতিরিক্ত খরচ করে সাউন্ড, লাইট, ফ্যান, পর্দা ইত্যাদি ভাড়া করতে হয়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ দাস ববি বলেন, ‘জেলার শিল্পীরা ঢাকাসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়ালেও একাডেমির নাজুক অবস্থার কারণে নতুন করে শিল্পী তৈরি হচ্ছে না। মঞ্চ, চেয়ার, ব্যাক স্ক্রিন, ফ্যান সবকিছুই ভাঙা। নাটক মঞ্চায়নের জায়গাটিও উপযুক্ত নয়।’

সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন, শিল্পী, প্রশিক্ষক ও সংস্কৃতি বিভাগের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকাটাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, দ্রুত নির্বাচিত কমিটি গঠন করে সংস্কৃতিচর্চার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার।

মুন্সিগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ঢালী বলেন, ‘একাডেমির কেবল একটি ভবন রয়েছে, কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। নাট্যদলগুলোকেও বাইরের ডেকোরেটরদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। চার ভাগের এক ভাগ চেয়ার দিয়ে অনুষ্ঠান চলে। পুরো পরিবেশই অনুৎসাহজনক। সাউন্ড সিস্টেম নেই। প্রোগ্রাম করতে হলে বাইরে থেকে সাউন্ড বক্স ভাড়া করে আনতে হয়। সরকারি প্রোগ্রাম বা জেলা প্রশাসকের নিজস্ব প্রোগ্রাম করলেও বাইরে থেকে লাইট ভাড়া করে আনতে হয়। আমাদেরও বাইরে থেকে সবকিছু ভাড়া করতে হয়। প্রোগ্রাম চলাকালে অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরের প্রয়োজন হয়। একাডেমির জেনারেটর বিকল থাকায় সে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিল্পীরা। জেনারেটরটি এক দশক ধরে নষ্ট হয়ে আছে। অল্প কিছু টাকা হলে সেটি ঠিক করা যায়, কিন্তু ঠিক করা হয় না। শিল্পকলার অডিটোরিয়ামের ব্যাক স্ক্রিনের সাদা পর্দাটা ছিঁড়ে গেছে। এটি পরিবর্তন করা উচিত।’

এ ব্যাপারে জেলা শিল্পকলা একাডেমির দায়িত্বপ্রাপ্ত কালচারাল অফিসার মো. এরশাদ হাসান বলেন, ‘একাডেমিতে লোকবল সংকট রয়েছে। কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেই। দুই মাস আগে আমি এখানে যোগ দিয়েছি। এরই মধ্যে ভবনটি সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তা দ্রুতই সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হবে।’