মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসিব হোসেন (৩২) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। তিনজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিব চনপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদল কর্মী শামীমের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেক দল কর্মী রব্বানীর বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল সকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাতভর চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষই গোলাগুলি করে। এ সময় যুবদল কর্মী হাসিবসহ উভয় পক্ষের ৩১ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গতকাল সকালে গুলিবিদ্ধ হাসিব মারা যান।

নিহত হাসিবের বড় ভাই যুবদল কর্মী বাবু বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী রবিনকে এলাকার কয়েকজন আটক করে। এ সময় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রব্বানী ও তার লোকজন এসে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে তারা তাদের লোকজন নিয়ে গতকাল সকালে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে হাসিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমি এলাকায় নেই। শুনেছি রবিন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা নিয়ে রব্বানীর লোকজন যুবদল কর্মী হাসিবকে গুলি করে। সে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এ ঘটনায় তার পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেবে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। রব্বানী স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘চনপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শামীম ও রব্বানী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান চলছে। সংঘর্ষে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না।’