দেশে অসমতা ও অন্যায় বেড়েই চলছে। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক অসমতা যেন একটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের শ্রমবাজার অনেক সস্তা, তবে শ্রমিক আন্দোলন অনেক দুর্বল। ব্যক্তিগতকরণের ফলে শিক্ষার মান কমে গেছে। গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত ‘৫০ বছরে বাংলাদেশ : আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি দেয়া বক্তব্যে এসব কথা জানান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।
উদ্বোধনী অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বায়েস বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভুল একেক সময় একেক জনের কথামতো কৌশল নির্ধারণ। আমাদের কেন্দ্রীয় কোনো পরিকল্পনা নেই। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন বন্ধ করা সম্ভব না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। আমাদের নিজস্ব কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। গবেষকদের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিকল্পনা ঠিক করতে হবে, ব্যবসায়ীদের দিয়ে নয়।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশে আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ নেই উল্লেখ করে বলেন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মতো ভাঙাচোরা অর্থনীতি আমাদের মডেল হতে পারে না।
উদ্বোধনী অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন জাবির অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শওকত আলী ও ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এ সেশনের সভাপতি ছিলেন জাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নুরুল হক। এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
দ্বিতীয় অধিবেশনে জাবির অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, স্বাধীনতার পর ৫০ বছর পরও রাজনৈতিক দলগুলোর ম্যানিফেস্টোতে থাকে ২০ টাকায় চাল খাওয়াবে। কিন্তু কৃষি, কৃষক, কৃষি খরচ বিবেচনায় নেয়া হয় না। জিডিপিতে কৃষির অবদানের হারও কমে আসছে। কৃষিপ্রধান দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়েও যথেষ্ট কাজ হয়নি।
গবেষক ড. মাহা মির্জা বাংলাদেশের পাটকল শিল্প প্রসঙ্গে বলেন, স্বাধীন দেশে ৫০ বছর ধরে পাটকল চললেও পর্যাপ্ত আধুনিকায়নের অভাবে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। বেসরকারি খাতে যে পরিমাণ ভর্তুকি দেয়া হয়, তার সিকি ভাগও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প খাতে দেয়া হয় না। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে ঢালাওভাবে বেসরকারীকরণ করলেই যে তা লাভবান হবে, তা অন্তত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় না।
দ্বিতীয় অধিবেশনে আরো বক্তব্য রাখেন ড. আমীন মাসুদ আলী, মোশাহিদা সুলতানা, কল্লোল মোস্তফা ও তৌফিকুল ইসলাম খান। এতে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন।
তৃতীয় অধিবেশনে বক্তারা বক্তব্য রাখেন ‘কৃষি, খাদ্য ও বন’ নিয়ে। এতে বক্তব্য রাখেন রেনুকা ফেরদৌসি, ড. খন্দকার আশরাফুল মুনিম, ফিলিপ গাইন, মো. আলামিন, অপূর্ব রায়, পাভেল পার্থ প্রমুখ। এ অধিবেশনে সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম।
চতুর্থ অধিবেশনে বক্তব্যের শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির ৫০ বছর: কিছু বিষয়’। এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন মো. সাদ্দাম হোসাইন, মেহেদী হাসান, ওবায়দুল হক, আয়েশা সিদ্দিকা প্রমুখ। চতুর্থ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন অধ্যয়ন কেন্দ্রের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মিনহাজ মাহমুদ।
পঞ্চম অধিবেশনে বক্তারা কথা বলেন ‘উন্নয়ন ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা’ নিয়ে। এতে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ, বিকাশ, বিবর্তন ও বর্তমান বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশবাদী আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।










