কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে টেকনাফের গোটা সীমান্ত এলাকা। আতঙ্ক দেখা দেয় স্থানীয়দের মধ্যে। হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং এলাকার সঙ্গে মিয়ানমারের দূরত্ব মাত্র দুই কিলোমিটার। সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় মিয়ানমারে কী হচ্ছে তা অনেকটা খালি চোখেই দেখা যায়। গোলাগুলি আর মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকাটি। 

উনছিপ্রাং সীমান্তের স্থানীয়দের দাবি, ওপারে ঢেকিবনিয়া এলাকায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখল করে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি ও অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। এ কারণে টেকনাফ অংশে মিয়ানমারের শহর শীলখালী, বলিবাজার ও কুইরখালী থেকে এসব বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঝিমংখালী বিওপির বিপরীতে অন্তত দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের জিবিং অং এবং হারিংগাচরের মারিক্কমপাড়ায় এসব বিস্ফোরণ হয়। সেখানে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সঙ্গে আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ হচ্ছে বলে ধারণা করছেন তারা। এর প্রভাবে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর আরো সদস্য এ দেশে ঢুকতে পারে—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। 

উনছিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ বলেন, ‘‌বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর ৫টা পর্যন্ত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছি। এই শব্দে এলাকা কেঁপে উঠছে। মনে হচ্ছে বজ্রপাত হচ্ছে। এ রকম শব্দ জন্মের পর শুনিনি।’

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের উনছিপ্রাং ওয়ার্ডের সদস্য রশিদ আহমদ বলেন, ‘‌বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কয়েকটি এলাকায় ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এতে আমাদের এলাকা কেঁপে উঠেছে।’

এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম ইউনিয়নের নয়াপাড়ার সীমান্ত এলাকার বিলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অবিস্ফোরিত অবস্থায় একটি মর্টার শেল পাওয়া যায়। রামু ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাবাহিনীর একটি টিম এসে সেটিকে গতকাল নিষ্ক্রিয় করেছে। এ সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। মর্টার শেল নিষ্ক্রিয় করার পর মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এপারে একের পর এক গুলি আসতে থাকে। এ সময় অনেকেই দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করেন। কেউ কেউ জমিতে শুয়ে পড়েন। পরে সবাই নিরাপদে অন্যত্র চলে যান। এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘুনধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত। তবে বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবিস্ফোরিত মর্টার শেল, রকেট লঞ্চার পড়ে থাকায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকার জনসাধারণ। কিন্তু পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। গত দুদিন ধরে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত স্থানীয়রা নিজ নিজ বসতবাড়িতে ফিরেছে। অবশ্য গতকাল রকেট লঞ্চারটি নিষ্ক্রিয় করার পরপরই সীমান্তের ওপারের ঢেকিবনিয়া থেকে ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে আরাকান আর্মি। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র নিয়ে অনুপ্রবেশ করা ২৩ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিজিবির এক সদস্য বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসেন। তিনি জানান, পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী রহমতের বিল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করা ২৩ রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এ মামলা হয়েছে।