নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ও পোগলা ইউনিয়নে দুটি ঘটনা ঘটে এবং পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে আরেকটি ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামের রাজিব মিয়ার এক বছর বয়সী ছেলে মুয়াজ খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পুকুরের পানি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসিবুল হাসান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে,একই দিন উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই গ্রামের টিটু মণ্ডলের ১৮ মাস বয়সী ছেলে তাসকিন তারেক বাড়ির চারপাশে জমে থাকা বর্ষার পানিতে পড়ে ডুবে যায়। পরে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, নেত্রকোনার পূর্বধলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল আলিম নামে ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার দুপুরের দিকে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল আলিম ওই গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে খাবার খেয়ে আব্দুল আলিম বাড়ির উঠানে সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় তার বাবা জমিতে চাষের কাজে চলে যান, এবং এর কিছুখন পর তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে হাঁসের খাবার আনতে যায়। ফিরে এসে তাকে কোথায় দেখতে না পেলে, পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ওই সময় শিশুটির সঙ্গে খেলতে থাকা তার চাচাতো ভাই মোস্তাকিম বলে যে তাকে পুকুরে পড়ে সাঁতার কাটতে দেখা গিয়েছিল।
একপর্যায়ে শিশুটির দূরসম্পর্কের নানা বাবুল মিয়া পুকুরের পানিতে তার মরদেহের দেখতে পান।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।










