মাধ্যমিক পর্যায়ের ইতিহাস বইসহ অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে জড়িত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষকের কাছে ‘উড়ো চিঠি’ এসেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এম শামীম কায়সার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বাধীন সেন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিছা পারভীন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মীকে উড়ো চিঠি প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষকগণ আলাদা আলাদাভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আশু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।’

‘উড়ো চিঠি’র বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন। তিনি বলেন, ‘আমাকে ম্যাসেঞ্জার এবং মেইলে চিঠি দিচ্ছে এবং গালাগালি করছে। তারা বলছে যে আমরা মোদির দালাল, আওয়ামী লীগের দালাল, ইসলামের শত্রু ইত্যাদি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ওই পুস্তক তো আমরা লিখেছি ১১ জন মিলে এবং কেউ জানেও না যে কে কতটুকু লিখেছে। সমাজবিজ্ঞান অংশে কোনো দোষ থাকলেও আমরাই গালি খাচ্ছি। আমরা তো ইতিহাসের শিক্ষক, ইতিহাস অংশ লিখেছি। আমরা তিনজন ইতিহাস অংশটুকু লিখেছি। সমাজবিজ্ঞান অংশটুকু লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্যরা। স্বাধীন সেন, আমি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবাশীষ কুমার কুন্ডু এরাই বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছি। স্বাধীন স্যারের কাছে উড়ো চিঠি এসেছে বলে শুনেছি। আমাকে বিভিন্ন মেইল এবং ম্যাসেঞ্জারে প্রচণ্ড গালাগালি করেছে বলে প্রথম বারের মতো ফেসবুক ব্লক করে দিয়েছি।’

আনিছা পারভীন বলেন, ‘আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাশনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি। শিক্ষামন্ত্রীও বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের যাওয়া-আসার জন্য প্রক্টরিয়াল গাড়িরও ব্যবস্থা করেছে।’

অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মীও হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে অধ্যাপক স্বাধীন সেনকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।