স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো লেভেল নিশ্চিত করা হবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াই এক অর্থে মুক্তিযুদ্ধের মতোই— এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন।

আজ পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিশন সেন্টারে ১৭তম এশিয়া ফার্মা এক্সপো ও এশিয়া ল্যাব এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিন দিনের এ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিশ্বের ২০টি দেশের প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। দেশের ওষুধ শিল্পের সামর্থ্য ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে এইআয়োজনকে গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তার ভাষ্যে, গত ১১ দিনে ভেন্টিলেটরের অভাবে ৩৩টি নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

মন্ত্রী বলেন, দায়িত্বশীলরা আগে জানলেন না, মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ ঘটনায় স্বাস্থ্য সচিবকে রাজশাহী সফরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করা হয়েছে।

সংকটময় মুহূর্তে বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে দ্রুত ভেন্টিলেটর সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় ওষুধ শিল্প উদ্যোক্তা আব্দুল মুক্তাদিরের সহযোগিতা নেয়া হয়। তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন, যা জীবন রক্ষায় বড় ভূমিকা রেখেছে। একইভাবে অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন সংকটেও বেসরকারি খাতের সহায়তা কার্যকর ছিল।

ওষুধ শিল্পকে ‘আভিজাত্যপূর্ণ ও মানবিক ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাত শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের জীবনরক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মুনাফার পাশাপাশি এখানে নৈতিকতার প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারী-বেসরকারী সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ওষুধ শিল্পের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। একটি কার্যকর ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলে জনগণের জন্য সেবা নিশ্চিত করা হবে বলে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প এরই মধ্যে বিশ্বমানের সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা স্থানীয়ভাবে পূরণ হচ্ছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।