পানি হলো প্রকৃতির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। যাকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সভ্যতার পত্তন হয়েছে। অথচ কালের পরিক্রমায় উজানের দেশ কর্তৃক পানির ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ ভাটির দেশকে বিপদে ফেলছে। জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু, ইকোসিস্টেমকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা। গতকাল বিকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে তিস্তা কনভেনশনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, তিস্তা সুরক্ষা ও নদ-নদী, খাল দখল-দূষণ বন্ধের দাবিতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আয়োজনে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর জেলা বাসদের আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, ভাষা সৈনিক মোহাম্মদ আফজাল, সিপিবি রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, বেরোবি ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলী রায়হান সরকার, নদী গবেষক শেখ রোকন, বাংলাদেশ মানবাধিকার ও পরিবেশ আন্দোলন (মাপা) রংপুর জেলার নির্বাহী মনির, ডা. সৈয়দ মামুনুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে এক সময় ১২০০ নদ-নদীর অস্তিত্ব ছিল। নদ-নদীগুলো উজান থেকে ভাটির দিকে জালের মতো বিস্তৃত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। নিয়মিত ড্রেজিং না করায় তলদেশ ভরাট হয়ে কিছু নদ-নদী অস্তিত্ব হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক নদী হিসেবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোর মধ্যে ৫৪টি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরই মধ্যে ভারত ৪৯টিতে বাঁধ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ভাটির দেশের প্রাপ্যতা ও নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রেখে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়া উজানের দেশ একতরফা পানি প্রত্যাহার করতে পারে না।










