মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে আমন ধানের পাতা হলুদ রঙ ধারণ করেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলার কৃষক। ধান গাছের সবুজ পাতা এমন করে হলুদ হয়ে ওঠার কারণ খুঁজতে কৃষি অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা মাঠ পরিদর্শন করেছেন। তারা মাটির নমুনা পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে আমন মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হওয়াকে কারণ হিসেবে পেয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক-দেড় মাস পর পাকা আমন ধান কাটা শুরু হবে। সে হিসেবে ফসল ঘরে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। মাঠে এখন ধানের পাতা সবুজ থাকার কথা থাকলেও হলুদ রঙ ধারণ করে স্বাভাবিক বর্ণ হারিয়েছে। আবার কিছু পাতা সাদা হয়ে পচে যাচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকরা শঙ্কা বোধ করছেন। অনেকে কৃষি বিভাগের পরামর্শমতো পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের সার স্প্রে করছেন। কয়েক দফায় স্প্রেও করেছেন কেউ কেউ। কিন্তু সুফল মিলছে না।

সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাড়ন্তি এলাকার বিভিন্ন মাঠে মনে হয় পাকা ধানের সোনালি রঙ ধরেছে। কিন্তু ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায় ফ্যাকাসে বিবর্ণ ধানের পাতা। কোনো কোনো স্থানে পাতা সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে ধান গাছ। এ সময়ে ধানের পাতা সবুজ থাকারই কথা। একই অবস্থা সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠেও। এছাড়া জেলার রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন মাঠে ধান গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেছে।

বাড়ন্তি গ্রামের কৃষক গণেশ দাস জানান, এ অবস্থা এবারই প্রথম। ধান গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এখনো ধানের থোড়ই বের হয়নি। এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় আছেন তারা। সার, ওষুধ ব্যবহার করেও লাভ হচ্ছে না।

এ এলাকার আরেক চাষী লোকমান আলী জানান, ধান পাকতে আরো এক-দেড় মাস সময় লাগবে। থোড় বের হওয়ার আগে ধানের পাতা হলুদ হওয়া ক্ষতির কারণ হতে পারে। অর্ধেক ফসলও কৃষক হয়তো পাবেন না।

সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের শ্যামের কোনা গ্রামের কৃষক জুয়েল মিয়া জানান, প্রায় ছয় কিয়ার (বিঘা) জমি চাষ করেছেন তিনি। এর মধ্যে অর্ধেক জমির ধানের পাতা লাল হয়ে গেছে। প্রথমে সবুজ থেকে পাতা হলুদ হয়। পরে পাতা সাদা হয়ে পচে নিচে পড়ে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ১ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে বেশি। গত বছর ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৫৮ হেক্টর। এ বছর সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে ব্রি ধান-৪৯। এছাড়া আছে ব্রি ধান-৫১ ও ৫২ জাত। নতুন জাত হিসেবে ব্রি ধান-৮৭ ও ৭৫, বিআর-২২ ও ১১ এবং স্থানীয় স্বর্ণা জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, কার্তিকের মাঝামাঝি সময়ে ধান কাটা শুরু হবে। তাদের দাবি, প্রতি বছরই এ রকম কিছু জমির ধান গাছের পাতা বিবর্ণ হয়। এ বছর একটু বেশি হয়েছে। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে খাদ্যঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোনো রোগের কারণে এ রকম হচ্ছে না। পানির অভাবে পটাশিয়াম, সালফার গ্রহণ করতে পারেনি ধান গাছ। এ কারণে পাতার রঙ বদলে সবুজ থেকে হলুদ হয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক কাজী লুত্ফুল বারী জানান, এ বছর ভাদ্র মাসে বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। এজন্য মাটিতে উচ্চমাত্রায় পটাশ ও ফসফরাস এবং স্বল্পমাত্রায় সালফারের ঘাটতি রয়েছে। তারা এক্ষেত্রে সম্পূরক সেচ, পটাশ সার, জিপসাম ও ফসফরাস সার স্প্রের পরামর্শ দিয়েছেন। উৎপাদনে বড় কোনো বিপর্যয় হবে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কুইক পটাশ, থিয়োবিট সার স্প্রে করতে কৃষকদের বলা হয়েছে। এতে তিন-চারদিনের মধ্যে পাতা সবুজ হয়ে যাবে।