ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য আট হাজার টন মসুর ডাল, ১০ টন চিনি কেনাসহ ১৩টি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে মোট ৩ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে গতকাল কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। 

তিনি জানান, টিসিবির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ভারতীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রিগো ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেড এ ডাল সরবরাহ করবে। প্রতি কেজি ডালের দাম পড়বে ১০০ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারিভাবে ২ লাখ ৮৮ হাজার টন ডাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টন। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ছয় হাজার টন মসুর ডাল প্রায় ৬৩ কোটি টাকায় কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। প্রতি কেজি ডালের দাম পড়বে ১০৪ টাকা ৯০ পয়সা। 

বৈঠকে টিসিবির মাধ্যমে ১০ হাজার টন চিনি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন প্রতি কেজি ১৬০ টাকা হিসাবে সরবরাহ করবে। ব্যয় দাঁড়াবে ১৬০ কোটি টাকা। চিনির কেজি পড়বে ১৬০ টাকা। দাম বেশি কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হবে। যেহেতু বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনে কিছু স্টক রয়ে গেছে। ওই স্টক থেকে আপাতত কেনা হবে। আমদানি করতে একটু সময় লাগছে। এখন যেহেতু আমাদের এক কোটি পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে, সুতরাং এটি সাময়িকভাবে সরকার টু সরকার ১৬০ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে। এ চিনি সরকারি মিলে উৎপাদিত। ’

মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, সরকার আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫৫ হাজার টন রক ফসফেট ও ফসফরিক অ্যাসিড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৫৬২ টাকা। এর মধ্যে ২৫ হাজার টন রক ফসফেট এবং ৩০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড রয়েছে। ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের হাউজিং কলোনি ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণসংক্রান্ত পূর্তকাজের জন্য ১২৫ কোটি ১৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫২ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।