টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের গোল চত্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু ও এক নারীসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একতা পরিবহনের একটি বাস ও একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মাইক্রোবাসের চালক কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে দুলাল হোসেন (৫২), পাবনার বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক (সার) জহিরুল ইসলাম (৫০), বগুড়া সদরের জলসিঁড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে রিফাত (৩৫), নাটোর সদরের বড়াই গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে তামিম (৭), রুবি বেগম (৬৫)। এছাড়া নিহত একজনের পরিচয় জানা যায়নি।

মাইক্রোবাসে থাকা চালক, একজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর বাসযাত্রীদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন পুরুষ যাত্রী হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ের গোলচত্বর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরবঙ্গগামী একটি মাইক্রেবাসের ওপরে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো তিনজন মারা যায়।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের সহকারী সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে চলে আসি। আমাদের রেসকিউ টিম এসে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আমাদের ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে আহতদের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া যারা ঘটনাস্থলে নিহত হয়, তাদের মরদেহ থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, দুর্ঘটনাটির জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ঢাকামুখী একতা পরিবহনের যে বাসটি বাম লেন দিয়ে যাচ্ছিল এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী লেনে প্রবেশ করে। কিন্তু উত্তরবঙ্গমুখী লেনে যে মাইক্রোবাসটি যাচ্ছিল তখন ওই বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়ে

এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ছয়জনের মৃত্যু হয়। যেসব পরিবারের সদস্যরা এখানে নিহত বা আহত হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে আমরা আইনগত সহায়তা প্রদান করব।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারকে মরদেহ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিত্সা সরকারি হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে।