চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ১৩ আসামিকে ডাকাতির মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রোববার (২২ অক্টোবর) তারা জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরআমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ন কবীর এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাড. মো. নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ।
মামলার নথি ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, শাহ জামালের ছেলে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামের মোসলেমা খাতুনের সঙ্গে। পারিবারিক বনিবনার না হওয়ার কারণে এক বছর পর তাকে তালাক দেন জসিম উদ্দিন। তালাক নিষ্পত্তি করতে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সালিসের আয়োজন করে। এ সময় বউ তালাক দেয়া বাবদ জসিমকে ২ লাখ টাকা ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউপি চেয়ারম্যান। সালিশে অতিরিক্ত জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জসিম ও তার বাবা শাহ জামালকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখ হয়। পরে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে সাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে ২৫ জুলাই ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে শাহ জামালের বাড়িতে ডাকাতি করে।
মামলার বাদী শাহ জামাল বলেন, ডাকাতির সময় তারা দুইটি গরু, স্বর্ণের মালা ও দুইটি কানের দুল, দুটি স্মার্টফোনসহ ৪৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নানারকম ভয়ভীতি দেখায়। পরে তিনি বাদী হয়ে গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম টিপু ও গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নুরুল ইসলামকে আসামি করে মোট ১৩ জনের নামে মামলা করেছি।’
আইনজীবী অ্যাড. মো. নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ জানান, চলতি বছরের ০৭ আগস্ট আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট দেয়। রোববার (২২ অক্টোবর) আদালতে হাজির হলে ১৩ জন আসামি জামিনের আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।










