উপকূলীয়
জেলা ঝালকাঠিতে নেই পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। ফলে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক
বিপর্যয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতীরের লাখো মানুষের মাঝে। বাধ্য হয়ে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের।
ঝালকাঠিতে
৬১টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে। কিন্তু নদী তীরবর্তী অঞ্চলে তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে দুর্যোগের
সময় চর ভাটারাকান্দা, দেউরি, সরই, মানকি, বড়ইয়াসহ ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার
প্রতিটি শেল্টারেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি লোক আশ্রয় নেয়। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়েও
বিপাকে পড়তে হয়।
দীর্ঘদিন
ধরে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের দাবি থাকলেও তা পূরণ হয়নি এ জেলায়। এ ছাড়া
নদীভাঙন রোধ ও বেড়িবাঁধের অভাবেও গৃহহারা হচ্ছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বাঁধ না
থাকায় পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যায় ফসলের ক্ষেত, বসতঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।
সুগন্ধা
নদীতে ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. মিলন। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়েই
আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আমরা নদীর তীরের বাসিন্দা, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ট্রলার
চালাই। ঘূর্ণিঝড়ের বার্তা পেলেই আমাদের হৃদয় কম্পিত হয়। আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে
হচ্ছে। কিন্তু ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতীরে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার নেই। এতে আমরা আতঙ্কে
আছি।
খেয়াঘাট
এলাকার বাসিন্দা মো. সেলিম বলেন, শুনেছি এবারের বন্যায় অনেক পানি উঠবে। পানি উঠলে আমাদের
ঘর তলিয়ে যাবে। মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমাদের আশপাশে কোনো সাইক্লোন শেল্টার
নেই। আছে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সেখানেই আশ্রয় নেব। তবে মানুষ আশ্রয় নিলেও
গবাদি পশু নিয়ে আমরা কোথায় যাব।
ঝালকাঠি
সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ড. কামরুন্নেছা আজাদ বলেন, মানুষ ঘূর্ণিঝড়ের সময় অন্যের
বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। আশা করব, সরকারের পক্ষ থেকে ঝালকাঠিতে পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার
নির্মাণ করে মানুষের কষ্ট লাঘব করবে।
ঝালকাঠি
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পান্না বলেন,
ঘূর্ণিঝড়ের আগাম বার্তা আমাদের কর্মীরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। আমরা মানুষকে ঝড়ের
আগেই সাইক্লোন শেল্টারে যেতে পরামর্শ দিচ্ছি। অনেকে যায়, অনেকে যায় না। তবে ঝালকাঠিতে
পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন।
পর্যাপ্ত
সাইক্লোন শেল্টার না থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ্ গুল
নিঝুম।
তিনি
বলেন, ‘জেলায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার
নেই, তবে পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আমরা সাইক্লোন শেল্টারের পাশাপাশি ৩৬৬টি
বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করেছি। এতে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে।
সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে সোলার প্যানেল রয়েছে। কয়েকটি নষ্ট ছিল, এগুলো সারানো হয়েছে।
আগামীতে সাইক্লোন শেল্টার যাতে বেশি নির্মাণ করা যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি
পাঠানো হবে।’










