গত চার দিনে হাজারেরও বেশি মানুষ ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাচ্ছে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। আজ বৃহস্পতিবার (১১ মে) ভোরে ১২ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ১৬০ জন রোগী। যা শয্যার তুলনায় ১৩ গুণ বেশি।
চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তের হার কমার
কোনো লক্ষণ তারা দেখছেন না।
আজ ভোরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া
ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, তখনো চিকিৎসা নিতে রোগী আসছেন। যাদের একটি অংশকে ব্যবস্থাপত্র
দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে। তবে গুরুতর আক্রান্তদের ভর্তি করানো হচ্ছে।
রোগীদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন
চিকিৎসক-নার্সরা। শয্যা ও বারান্দায় স্থান স্বল্পতার কারণে গাদাগাদি করে সেবা নিচ্ছেন
রোগীরা।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন চিকিৎসা
দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, ওষুধ স্বল্পতা
আছে, তবে তীব্র নয়। সেটা তারা মোকাবেলা করছেন। কিন্তু তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।
রোগীদের শয্যার ব্যবস্থা করতে পারছেন না।
আরো জানান, ডায়ারিয়ার রোগীদের ভালো পরিবেশ
দিতে পারলে দ্রত উন্নতি সম্ভব। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে আক্রান্ত রোগীদের মেঝেতে রাখায় অসুস্থতার
ঝুঁকি বাড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। রোগীর চাপ থাকায়
২৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বহির্বিভাগেও ডায়রিয়া আক্রান্তরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা কবির জানান, গত
কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আগে কম কয়সীরা আক্রান্ত হয়ে এলেও এখন সব বয়সী
রোগীই আসছেন।
তিনি জানান, আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার
আগেই নতুন রোগী ভর্তি নিতে হচ্ছে। ওষুধ ও স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই। ঘাটতি রয়েছে পর্যাপ্ত
শয্যা ও নার্স।
হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন
কুষ্টিয়ার থানাপাড়ার বাসিন্দা হারুন-উর রশিদ আসকারী। তিনি তিনদিন ধরে আক্রান্ত হয়ে
এখানে ভর্তি হয়েছেন। জানান, বারান্দায় ধুলা-বালি ও গরম। একইসঙ্গে মশা-মাছির উপদ্রব।
খুব কষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের করিডর ও মেঝেতে সারি
সারি মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। খোলা বারান্দায় হাঁটার জায়গা না থাকায় রোগীদের
বিছানার ওপর দিয়ে জুতো-স্যান্ডেল পরে অনেককেই চলাফেরা করতে দেখা যায়। রোগীদের গায়ের
সঙ্গেও ধাক্কা লাগছে তাদের।
ডায়রিয়া মৌসুমী রোগ, এই সময়ে হয়ে থাকে-
উল্লেখ করে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সমগ্র জেলার মধ্যে
কুষ্টিয়া পৌরসভা ও মিরপুর উপজেলায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য জেলার সব
সরকারি হাসপাতালকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।










