ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের সত্যপীরে ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। যক্ষ্মার চিকিৎসায় হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও রয়েছে জনবল সংকট। এছাড়া ক্লিনিকে কফ ও টিবি পরীক্ষার জন্য জিন এক্সপার্ট মেশিন থাকলেও নেই প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা। ক্লিনিকে থাকা এক্স-রে মেশিনটিও অচল। একজন কনসালট্যান্ট চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও দেন সার্জারি বিশেষজ্ঞ। রোগীদের অভিযোগ, সেবা দেয়ার জন্য ক্লিনিকটি করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা তারা পাচ্ছেন না। যতটুকু সেবা দেয়া হয়, তাতেও রয়েছে ভোগান্তি।

সরজমিনে দেখা গেছে, ক্লিনিকের প্রবেশপথে তদারকি না থাকায় যে যার মতো ভেতরে প্রবেশ করছে। সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত দেয়া হয় সেবা। টিউবারকুলোসিস বা টিবি রোগে আক্রান্তরা ছাড়াও রয়েছে জ্বর, সর্দি, ব্যথাজনিত রোগী।

চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে আসা হয় কম টাকায় চিকিৎসা নেয়ার জন্য। এখানে কফ পরীক্ষা করা হয়। তবে বুকের এক্স-রে বাইরে থেকে করতে হয়। এক্স-রে করার জন্য সরকার পাড়ার ব্র্যাক অফিসে রিকশায় যেতে-আসতে একজনের ৬০ টাকা খরচ হয়। গরিব মানুষ, এত বেশি টাকা তো আমাদের নেই। যদি এখানে পুরো সেবাটা দেয়া হয় তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা জহির ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালটি দেখে মনে হয় না সরকারি প্রতিষ্ঠান। কোনো ধরনের নিয়ম-কানুন নেই। যে যার মতো ক্লিনিকের জমি দখল করে নিচ্ছে। দুপুরের পর থেকে গরু-ছাগলের চারণভূমিতে পরিণত হয়। একজন মাত্র চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেয়া হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো উচিত।’

বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের তথ্যমতে, ক্লিনিকে ২১টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে চারটি। তবে একজন বক্ষব্যাধি কনসালট্যান্ট ও একজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্লিনিক থেকে টিবি রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮ জন। বক্ষব্যাধিসহ সাধারণ রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ২৬১ জন।

এ ব্যাপারে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু কুমার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্লিনিকটিতে প্রধানত যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসা দেয়া হয়। এ রোগ শনাক্ত করার জন্য এক্স-রে মেশিনের প্রয়োজন হয়। তবে মেশিনটি প্রায় ১৫ বছর ধরে নষ্ট। এ কারণে রোগীদের বাইরে গিয়ে এক্স-রে করাতে হয়। আর বক্ষব্যাধি রোগী ছাড়াও এখানে সাধারণ রোগীও আসে। তাদেরও চিকিৎসা দেয়া হয়। নৈশপ্রহরী না থাকায় হাসপাতালটি অরক্ষিত থাকে। সমস্যাগুলো নিয়ে কয়েক দফা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছি।’ অল্প সময়ের মধ্যে এসব সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. নূর নেওয়াজ আহমদ বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলে আসছি। ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক সেখানে সেবা দিচ্ছেন। ক্লিনিকে নৈশপ্রহরীর কোনো পদ না থাকায় লোকবল দেয়া হয়নি৷ এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট। নতুন মেশিন নেয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া হাসপাতালের ২৯ শতক জমি দখল হয়েছে। সেটিও প্রশাসনকে জানিয়েছি।’