সাতক্ষীরার বাজারে উঠতে শুরু করেছে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও বৈশাখী আম। নতুন ঘোষিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে এসব আম বাজারে এসেছে। ২০ মে শুরু হবে হিমসাগর বাজারজাত। ২৭ মে থেকে পাওয়া যাবে ল্যাংড়া। আর ৫ জুন থেকে বাজারে উঠবে আম্রপালি জাতের আম। সাধারণত মৌসুমের শুরুতে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় আমের দাম পাওয়া যায় ভালো। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। গত মৌসুমে প্রতি কেজি গোপালভোগ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা। গোবিন্দভোগ ছিল ৭৫ টাকা। ৬০ টাকা ছিল বোম্বাই। আর গোলাপখাস বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। চলতি মৌসুমে প্রকারভেদে প্রতি কেজিতে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, আড়তগুলোয় প্রচুর আম উঠছে। এসব আম কিনতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, এবার জেলায় ৩৫০ কোটি টাকার বেশি আম বেচাকেনা হতে পারে।
তবে চাষীরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। গত মৌসুমের তুলনায় প্রকারভেদে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা কম পাচ্ছেন।
মুকুল আসার আগেই আমের বাগান কেনেন মুজিবর রহমান। এ বছরও তিনি বাগান কিনেছেন। আমের বাজারদর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত মৌসুমের তুলনায় এবার বাগান থেকে আম বেশি দামে কিনতে হয়েছে। গত বছর ১ লাখ টাকায় বাগান কিনলেও এবার তা ১ লাখ ৪০ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। সে তুলনায় বাজারে আমের দাম বাড়েনি, বরং কমেছে। শ্রমিক খরচ, কীটনাশকসহ বাগান পরিচর্যা করে লাভ করা সম্ভব হবে না।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে নিরাপদ আম উৎপাদন করে আলিফ ম্যাংগো। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক লিয়াকত আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, ল্যাংড়া ও আম্রপালিসহ সাতক্ষীরার আম রফতানিতে অনেক সম্ভাবনাময়। কিন্তু জেলার কৃষি কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে ইউরোপ-আমেরিকার বাজার হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। নিরাপদ ও রফতানিজাত আম উৎপাদনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির কথা থাকলেও বাস্তবে তা ভিন্ন। রফতানিজাত আম উৎপাদন বাগানগুলোয় নামমাত্র দুই একবার এলেও আর কোনো কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায় না। সেই সুযোগে অনেকে আমে বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে করে।’
চলতি মৌসুমে ২২ বিঘা জমিতে নিরাপদ ও রফতানিজাত আম উৎপাদন করেছেন আমচাষী লিয়াকত আলী। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা তার আমবাগান পরিদর্শনে আসেননি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৮০০ টন। এবার জেলায় ৪ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির আমের ফলন হয়েছে। তবে গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে প্রায় ৮০০ টন। গত মৌসুমে আমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ২২ টন। ফলন হয়েছিল ৪ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে। সে অনুযায়ী চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৭৭৮ টন। উৎপাদন ভূমি বেড়েছে ১৭ হেক্টর।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন হয়েছে। ১৩ হাজার ১০০ জন চাষী এসব বাগান পরিচর্যা করছেন।’










