বগুড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানসহ পৃথকভাবে বিষাক্ত মদপানে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলা পুলিশ বলছে, দুজন হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এবং অন্য তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এছাড়া মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ চলছে।
জানা যায়, বগুড়া শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় রোববার রাতে এক যুবকের বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক হোমিও ওষুধের দোকান থেকে মদপান করেন ওই এলাকার একই পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। মদপানের পর স্থানীয় বাসিন্দা প্রেমনাথের পুত্র সুমন রবিদাস (৩৮), প্রতিবেশী
রাজমিস্ত্রি শ্রমিক রমজান আলী (৪০) রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সুমনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং রমজানকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বগুড়া সদর থানা পুলিশ বলছে, রমজান আলী মদপানে নয়, হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এছাড়া বগুড়া শহরের কালিতলা এলাকায় রোববার রাতে অ্যালকোহল জাতীয় মদপান করেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। এদের মধ্যে জেলা শহরের কাটনার পাড়ার কুলি শ্রমিক সাজু মিয়া (৩৫), হোটেলের
বাবুর্চি মোজাহার আলী (৭০) ও ফুলবাড়ি সরকার পাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের পুত্র দিনশ্রমিক পলাশ সরকার (৩৫) বাড়িতেই মারা যান। মদপান করে নিজ নিজ বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা মারা যান। পুলিশ বলছে, মারা যাওয়াদের মধ্যে মোজাহার আলী আগে থেকে হূদরোগে ভুগছিলেন এবং হূদরোগেই তার মৃত্যু হয়েছে। আর পলাশ ও সাজু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হবে।
বগুড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবিরাজ তরুণ কুমার চক্রবর্তী জানান, ফুলবাড়ী ও কাটনারপাড় এলাকাটি তার পৌরসভার ওয়ার্ডের মধ্যে। মারা যাওয়া তিনজনই কালিতলা বাজার এলাকায় অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে মারা গেছেন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, মারা যাওয়াদের মধ্যে সুমন, সাজু ও পলাশের মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। বাকি দুজন রমজান আলী ও মোজাহার আলী আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। তারা হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।










