পটুয়াখালী জেলা রেজিস্ট্রি ও সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দ্বিতল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা হয়েছে এক যুগ আগে। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়াসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ধরায় ২০১১ সালে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধরনা দিয়েও মেলেনি নতুন ভবনের বরাদ্দ। দ্বিতল ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ার পর থেকেই পটুয়াখালী ছোট চৌরাস্তাসংলগ্ন একটি ভাড়া ভবনে চলছে জেলা রেজিস্ট্রি ও সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কাজ। জরাজীর্ণ ভবনের পাশেই রয়েছে একতলা একটি রেকর্ড রুম। যেখানে রয়েছে ১-১৫০ বছরের পুরনো বালাম বই ও রেকর্ড। রেকর্ডের পরিমাণ বেশি হওয়ায় জেলা রেজিস্ট্রি ও সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের তল্লাশকারক নকলনবিশসহ স্থায়ী কর্মচারীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক সময় তাদের মাথায় ওপর পলেস্তারা খসে পড়ে। ফলে এসব কর্মচারীকে আতঙ্ক নিয়েই কাজ করতে হয়। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের তল্লাশকারক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এ অফিসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করি। শিগগিরই এখানে যেন নতুন ভবন নির্মাণ করা হয় সেজন্য তল্লাশকারকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’ 

নকলনবিশ অ্যাসোসিয়েশন পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, ‘ভবনটি ধসে পড়ার উপক্রম হলেও রুটি রুজির তাগিদে আমরা জীবন বাজি রেখে এখানে কাজ করে যাচ্ছি। এ অফিসের জন্য নতুন ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দিতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানাই।’

পটুয়াখালী দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জুয়েল মৃধা বলেন, ‘জেলা রেজিস্ট্রি ও সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস ভবনটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অথচ নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে সঠিক খবর পাচ্ছি না। তাই দ্রুত ভবন নির্মাণে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কামাল হোসেন খান জানান, ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে শহরের ছোট চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া ভবন নিয়ে জেলা ও সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। রেকর্ড রুম পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে থাকায় তল্লাশকারক, নকল নবিশ ও স্থায়ী ১৮০ কর্মচারী ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এ বছর সরকারি ভবন নির্মাণের তালিকায় পটুয়াখালী রেজিস্ট্রি অফিস ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে ভবনটি দ্রুত নির্মাণ হলে অফিসের কার্যক্রমে যেমন সুবিধা হবে, তেমনি সেবাপ্রত্যাশীদেরও ভোগান্তি কমবে।