ময়মনসিংহ নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অন্তঃসত্ত্বা নারী রেখা আক্তার ও তার গর্ভের দুই জমজ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনা চাপা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ আরেকটি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকার পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল সকালে ওই নারীর মরদেহ নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ করেন স্বজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত রেখা আক্তার ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া এলাকার মাহমুদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ১৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
রেখার স্বামী মাহবুল আলম জানান, কিডনির পাথর অপারেশনের জন্য বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় দালালরা রেখা আক্তারকে চরপাড়া ব্রাহ্মপল্লীর পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করান। রাত ১টার দিকে রেখা আক্তারের অপারেশন করেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল হক মোল্লা। এ সময় রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়া দেন ডা. আরিফ রব্বানী।
পেশেন্ট কেয়ার হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, ‘অস্ত্রোপচার কোন চিকিৎসক করেছেন তা আমার জানা নেই। রোগীর লোকজন বিষয়টি বলতে পারবেন। আমি ঢাকায় আছি। পরে কথা বলব।’
অভিযুক্ত অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. আরিফ রব্বানী অভিযোগ অস্বীকার করে এর দায় চাপান হাসপাতাল মালিকের ওপর। তিনি বলেন, ‘অপারেশনের পর রক্তের জোগানসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক ম্যানেজমেন্ট করতে না পারায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।’
ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।










