সচিবরা সবাই সরকারি কর্মকর্তা; তারা রাজনীতির অংশ নন। সবাইকে মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন নতুন সরকারপ্রধান।

বৈঠক শেষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, ‘সচিবরা সবাই সরকারি কর্মকর্তা, তারা রাজনীতির অংশ নন। জনগণ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতাহার দেখে ম্যান্ডেট দিয়েছে, নিশ্চয়ই তারা ইশতাহার পছন্দ করেছেন। সেই ইশতাহার যেন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে, সেজন্য সব সচিবকে অনুরোধ এবং মেধাকে কাজে লাগিয়ে জনস্বার্থে দেশের জন্য ভালো কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।’

মিটিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কি শুধু ইশতাহার, নাকি অন্য কিছু—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, জনগণের প্রত্যাশা ইশতাহারেই বলা আছে। এজন্য জনগণ ভোট দিয়েছে, সমর্থন করেছে। সুতরাং দেশের ভালো জন্য আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পৌঁছেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান। এরপর বেলা ৩টার দিকে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অংশ নেন এবং বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সূত্রে জানা যায়, বৈঠকটি মূলত পরিচিতিমূলক সভা। এ বৈঠকের মাধ্যমে সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের শুরুতে তিনি মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তার দলের নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী দেশ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের বৈঠকের পর সরকারের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিট তিনি সচিবদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

গতকাল সচিবালয়ের ৪ নম্বর ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে দুজন সচিব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনেক পোলাইট ছিলেন। তিনি কর্মকর্তাদের নিজস্ব মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কে কোন মতাদর্শকে ধারণ বা সমর্থন করেন সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়। মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।’ পাশাপাশি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ, পদোন্নতির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।