নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের স্কুল শিক্ষার্থী
রোমান মিয়া হত্যা মামলায় সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও গাজী গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম
দস্তগীর গাজীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোমান হত্যা মামলায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ
তার দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। রোববার (২৫ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল
ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মুহাম্মদ মোহসেন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে রিমান্ডের
আবেদন মঞ্জুর করেন।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সাবেক
বস্ত্র পাটমন্ত্রীকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়ে আসা হয়। এ সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ডিম
ছুড়ে মারে বিক্ষুব্ধ মানুষ।
এর আগে ২৪ আগস্ট রাতে সাবেক মন্ত্রী ও গাজী
গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম দস্তগীর গাজীকে রাজধানীর শান্তিনগরের বাসা থেকে গ্রেফতার
করা হয়।
রূপগঞ্জে রোমান মিয়া নামের ১০ম শ্রেণীর এক
ছাত্রকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গত ২১ আগস্ট দায়ের করা মামলায় গোলাম দস্তগীর গাজএক
গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরুও জানান, গোলাম দস্তগীর গাজীকে রূপগঞ্জের রোমান হত্যা
মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গত ২১ আগস্ট বিকেলে নিহত রোমান মিয়ার খালা
মোসা. রিনা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের
হোসেন তখন জানিয়েছেন, নিহত রোমান মিয়া উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের আনোয়ার হোসেনের
ছেলে। সে পুনর্বাসন কেন্দ্রের নব কিশলয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের
সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
গোলাম দস্তগীর গাজী, গোলাম দস্তগীরের ছেলে গাজী গোলাম মূর্তজা, পাটমন্ত্রীর পিএস এমদাদুল
হক, ফিরোজ ভূঁইয়া, সদ্য সাবেক রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানসহ কয়েকজন ইউপি
চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ এবং দলটির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নাম আছে। এ ছাড়া
মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়,
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর সন্ধ্যায় চনপাড়ায় ছাত্র-জনতার একটি আনন্দ
মিছিল বের হয়। মিছিল পণ্ড করতে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, গোলাম দস্তগীর ও গোলাম মূর্তজার
নির্দেশে আওয়ামী লীগের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় নিহত রোমানের
গলা, ঘাড়, হাত, বুক ও পিঠে কয়েকটি গুলি লাগে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি
হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে বিনা ময়নাতদন্তেই তাকে দাফন করা হয়।
গাজী গোলাম দস্তগীরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি
নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের হোসেন জানান, তাকে ঢাকা গোয়েন্দা
পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা তাকে কোন মামলায় গ্রেফতার করেছে জানি না, তবে তাকে রূপগঞ্জ
থানায় দায়ের করা রোমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।










