নিখোঁজের তিনদিন পর নারায়ণগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নুর পরশকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মাথায় ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শেখ ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। আজ মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তিনি এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
ডা. শেখ ফরহাদ হোসেন বলেন, নিহতের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে হত্যার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে। সকাল সাড়ে ১০টায় তিন চিকিৎসকের সমন্বয়ে তৈরি বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। ময়নাতদন্তের বোর্ডে ডা. শেখ ফরহাদের নেতৃত্বে ছিলেন ডা. মফিজউদ্দিন নিপুন ও ডা. গোলাম মোস্তফা।
বেলা ১২টায় বোর্ডের প্রধান ডা. ফরহাদ বলেন, তিন সদস্যের চিকিৎসক বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে। নিহতের মাথা ও বুকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনদিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই ছাত্র। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই ময়নাতদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি বলেন, ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত।
নিহতের বাবা নুরু উদ্দিন রানা জানান, গত ৪ নভেম্বর বিকালে রাজধানীর ডেমরা থানার শান্তিবাগ কোনাপাড়া এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পরশ। রাতে পরশ বাসায় ফিরে না আসায় তার বাবা নূর উদ্দিন রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘটনার তিনদিন পর গতকাল সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে যুবকের অর্ধগলিত লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশকে জানায়। পরে সদর নৌ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় স্বজনরা ও বন্ধুবান্ধব এসে পরশের লাশ শনাক্ত করেন।
নিহতের বাবা নুরুদ্দিন রানা বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরশ ডিবেটিং ক্লাব বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিল। পড়াশোনা ডিবেটিং ও ক্যাম্পাসের বাইরে তার কোনো গন্তব্য ছিল না। ওয়ার্ল্ড ডিবেটিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য এর জন্য আগামী জানুয়ারি মাসে তার স্পেনে যাওয়ার কথা ছিল। এরইমধ্যে তার পাসপোর্ট করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু নির্মমভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের কাছে সন্তানের হত্যার বিচার চাই।
ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ নিহত ফারদিনের বান্ধবী ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কললিস্ট বিশ্লেষণ করে দেখে যায় সর্বশেষ তার সঙ্গেই ফারদিনের কথা হয়েছে। তারপর ফারদিনে অবস্থান দেখায় ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায়। এরপর থেকে ফারদিনের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বেলা পৌনে একটার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ফারদিন নূরের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান স্বজনরা। ফারদিনের প্রথম জানাজা নামাজ বুয়েট ক্যাম্পাসে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হয় ৷ পরে ডেমরার কোনাবাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা হয়। এরপর ফতুল্লার দেলপাড়ার নয়ামাটি এলাকায় নিজের পৈত্রিক বাড়ি এলাকায় তার দাফন করা হয়েছে বলে জানান স্বজনররা।










