সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বরিশাল বিভাগে। নদীবিধৌত এ অঞ্চলে গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি। বিভাগের ছয় জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৫ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজারের অধিক মানুষ। এর মধ্যে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪০ জন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায়। এরই মধ্যে উপকূলীয় জেলা বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বরিশাল বিভাগ, বিশেষ করে বরগুনা জেলায় এবার শুরু থেকেই ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণের হার বিরাজ করছে। আগস্টে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হলেও সেপ্টেম্বরে আবার বেড়েছে। জুলাই-আগস্টে বিভাগে ধারাবাহিক ভারি বৃষ্টি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে কমলেও থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় সংক্রমণ মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা করেছিল স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, ‘গত বছর বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত্রের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৭৩ জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজার ২৯০ জন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকছেন। হাসপাতালটিতে নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় দুই হাজার রোগী। ডেঙ্গু রোগীদের সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হাসপাতালে সেবার পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি।’

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ধারাবাহিক ভারি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হলেও অল্প সময়ে নেমে যাওয়ায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভা টিকে থাকার জন্য সহায়ক নয়। কিন্তু থেমে থেমে অল্প বৃষ্টি হলে বিভিন্ন ছোট পাত্রে, নিচু জায়গায় কিংবা বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকে। এটি এডিস মশার লার্ভার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৩ হাজার ৮৭ জন। নভেম্বরের ১০ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪০ জনের বেশি। আর মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের পাশাপাশি হাসপাতালে স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো দরকার।’

উপকূলীয় জেলা বরগুনা ও পটুয়াখালীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত সবচেয়ে বেশি। জটিলতা ও প্রাণহানি এড়াতে লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বরগুনায় আগে কখনো ডেঙ্গুর এমন ধারাবাহিক ও উচ্চ সংক্রমণ দেখা যায়নি। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জুনের মাঝামাঝি সময়ে বরগুনায় এডিস মশার লার্ভা জরিপ কার্যক্রম চালায়। গত ২৬ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে আইইডিসিআর জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে জানায়, বরগুনা পৌরসভার ৩১ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলের ৭৬ শতাংশ বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপ দল বরগুনার ১৮৪টি ঘর থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ১৩৮টি বরগুনা পৌরসভার এবং ৪৬টি সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের। এর মধ্যে পৌর এলাকার ৪৩টি বাড়িতে এবং গ্রামের ৩৫টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়।