পরে নতুন করে আরো ১৭২ কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। এতেও দুর্ভোগ কমেনি মহাসড়কটিতে। বর্তমানে চলছে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে দুই কিলোমিটার ঢালাইয়ের কাজ। অন্যদিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ছয় প্রকল্পের কাজও চলছে ধীরগতিতে। এ অবস্থায় দক্ষিণাঞ্চলের এ দুটি মহাসড়কে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ চলমান থাকা, ভাঙা সড়ক, অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং বাজার ও বাসস্ট্যান্ডের কারণে ভোগান্তি হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে দুই কিলোমিটার এলাকা ডিসেম্বর থেকে রিজিট (ঢালাই) কাজ চলছে। এ কারণে মহাসড়কের এক পাশ খোঁড়া রয়েছে। ব্যস্ত এ সড়কের এক পাশ বন্ধ করে অন্য পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে সবসময়ই যানজট লেগে থাকছে। ঈদযাত্রায় এ যানজট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নওয়াপাড়া শিল্পনগরীর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওয়াপাড়া গ্রুপের ম্যানেজার রাজু আহমেদ বলেন, ‘নওয়াপাড়া শুধু একটি নৌবন্দর নয়, এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীও। এখানকার বন্দরের মাধ্যমে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানীকৃত সার খালাস করে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। ভরা মৌসুমে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সার সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চেঙ্গুটিয়া থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এতটাই খারাপ যে ট্রাকগুলো লোড নিতে পারে না। এ অবস্থায় আমরা সার সরবরাহ করতে পারছি না। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, কৃষকও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

এদিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি ছয় লেন প্রকল্পের কাজও চলছে ধীরগতিতে। প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়ক যশোরের চাঁচড়া এলাকা থেকে শুরু হয়েছে। ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত। খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থাপনকারী এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চলমান উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, উঠে গেছে পিচ। ঈদযাত্রায় মহাসড়কটি ভোগান্তির কারণ হতে পারে বলে মনে করেন যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী ট্রাকচালক সালাম হোসেন বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ভেঙে যাচ্ছে। অন্যান্য যন্ত্রাংশও নষ্ট হচ্ছে। তবু জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছি। সময়মতো পণ্য পৌঁছানো যায় না, দুর্ঘটনার ভয় সবসময়ই থাকে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাক উল্টে যাচ্ছে, মোটরসাইকেল পড়ে যাচ্ছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে মানুষের শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এত বড় প্রকল্প হলেও কাজের অগ্রগতি তেমন একটা হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে ঢালাইকাজ চলছে। ঈদের আগে এ কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। এখানে কিছুটা যানজট হবে। তারপরও মানুষ যাতে কষ্ট না পায় সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। মহাসড়কের মাটির গুণাগুণ খারাপ। আবার ওভারলোড যানবাহন চলাচলের কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বুয়েটের পরামর্শে ঢালাই রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। চার কিলোমিটার শেষ হয়েছে, ২ দশমিক ৩ কিলোমিটারের কাজ চলছে। আরো ৮ কিলোমিটার ঢালাই রাস্তা করা হবে। সব কাজ শেষ হতে দেড় বছর লাগবে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।’

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ মহাসড়কের অবস্থাও নাজুক। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারকাজ চলছে। ঈদে এ মহাসড়কেও যানজট হবে। তবে যশোরের অন্য মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানজট হবে না।’