লক্ষ্মীপুরে অনুদানের জন্য চিকিৎসা সনদ জালিয়াতির ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. নুর হোসেনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত রায় এ দণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত নুর হোসেন সদর উপজেলা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পাঁচপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও একই এলাকার বাসিন্দা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিডনি, লিভারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অনুদান দেয় সরকার। এ অনুদান পাওয়ার জন্য নুর হোসেন আবেদন ফরম নেন। ওই ফরমে সই নেয়ার জন্য তিনি দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবিরের সঙ্গে দেখা করেন। এসময় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সন্দেহ হলে সিভিল সার্জন নোয়াখালীর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ফোন করে বিষয়টি জানতে চান। সেখান থেকে নিশ্চিত করা হয়, ওই ক্রমিকের কাগজপত্রগুলো শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির। পরে প্রতারণার বিষয়টি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালককে জানানো হয়।
এদিকে, জালিয়াতি প্রমাণ পাওয়ায় নুর হোসেনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে যান। এসময় অপরাধ স্বীকার করায় নুর হোসেনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ, স্টোকসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্তদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দেয়া হয়। তবে কাগজপত্র সঠিক থাকলে ও জেলা সিভিল সার্জনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদন যাচাই-বাচাই শেষে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির আবেদন দুটিতে মেডিকেল কাগজপত্র জাল থাকার সত্যতা পায় জেলা সিভিল সার্জন। পরে তার আবেদন দুটি বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহাম্মদ কবির বলেন, শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মেডিকেল রিপোর্টের নাম পাল্টিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট যাচাই-বাচাই করে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়েছে।
এ ব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত রায় গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সনদ জালিয়াতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় অভিযুক্ত নুর হোসেনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
এ দিকে পুলিশ হেফাজতে থাকায় অবস্থায় নুর হোসেন জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ ও অন্যদিকে তার ভাই সম্প্রতি গাছ থেকে পড়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। তাদের চিকিৎসা অর্থ যোগান দিতে তিনি মেডিকেল রিপোর্ট নকল করে অনুদানের জন্য আবেদন করেছে। সে তার ভুল স্বীকার করেছে।










