নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর ও বীরপুর গ্রামের মধ্যে প্রবাহিত হাড়িধোয়া নদী। একসময় স্বচ্ছ জল ও মাছের প্রাচুর্যে ভরা এ নদী এখন শিল্প বর্জ্য, আবাসিক এলাকার নোংরা পানি, পলিথিন ও আবর্জনায় মৃতপ্রায়। নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দূষণমুক্ত ও পুনর্জীবিত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাউবোর নরসিংদী কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ূন কবির।

তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত দূষণে জর্জরিত হঁাড়িধোয়া নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো অর্থছাড়ের সরকারি আদেশ (জিও) পাইনি। এটি পেলেই সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করা হবে।’

নরসিংদীর সরকারি কলেজের প্রভাষক আবদুর রহমান বলেন, ‘নদীর দুই তীরে থাকা ডাইং, টেক্সটাইল, ট্যানারি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানাগুলো প্রতিদিন পরিশোধন ছাড়াই রাসায়নিক বর্জ্য ফেলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লা পানি। ফলে নদীর পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’

শিবপুর কারারচরের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ‘দূষণের কারণে এখন আর কেউ নদীর পানি ব্যবহার করে না। মাছের প্রজাতি দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। জেলেরা জীবিকা হারিয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।’

এ ব্যাপারে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মনসুর আহমেদ বলেন, ‘হঁাড়িধোয়া নদীর স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে বার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। তবে প্রভাবশালী মহল ও কিছু ব্যবসায়ীর কারণে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবু আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এগোচ্ছি। আশা করি, হঁাড়িধোয়া আবারো প্রাণ ফিরে পাবে।’