এসব কূপে কোম্পানিটি নিজেদের বিনিয়োগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে চায়। আর গ্যাস পেলে তা কিনতে চায় পেট্রোবাংলা। সিসিডিসি তাদের দেয়া প্রস্তাবে পেট্রোবাংলার সঙ্গে প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) মডেলে চুক্তি করতে চায়। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সিসিডিসির কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, সিসিডিসি চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কোম্পানির (সিএনপিসি) সহযোগী কোম্পানি।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে পেট্রোবাংলার দুজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে সিসিডিসি পেট্রোবাংলার পড়ে থাকা কূপ খননের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা এসব কূপ খনন করতে চায়। এখানে কোম্পানিটি নিজেই বিনিয়োগ করবে। পেট্রোবাংলার কোনো বিনিয়োগ থাকবে না। গ্যাস পেলে পেট্রোবাংলা অনশোর পিএসসি চুক্তির আওতায় গ্যাস কিনবে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা। যেহেতু পেট্রোবাংলার কোনো ব্যয় নেই, ফলে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেয়া হবে।’
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে অন্তত পাঁচটি গ্যাস ক্ষেত্র। এগুলোয় এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে ৬৬১ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস। এর মধ্যে পরিত্যক্ত রূপগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্রে ১৬ বিসিএফ, সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪৪৭, কামতায় ৪৫, ফেনীতে ৬২ ও সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্রে ৮৯ বিসিএফ। দীর্ঘ সময় ধরে এসব গ্যাস ক্ষেত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। দেশে গ্যাসের ঘাটতি থাকলেও এসব গ্যাস ক্ষেত্র কোনো ধরনের কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
পরিত্যক্ত এসব গ্যাস ক্ষেত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রের আওতায় যেসব কূপ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেগুলোর বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে সিসিডিসির।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চীনসহ দুটি কোম্পানি দেশের পরিত্যক্ত গ্যাস কূপে অনুসন্ধানের আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছি। পিএসসির মতো কোনো চুক্তি করা যায় কিনা সেটা নিয়ে ভেবে দেখা হচ্ছে। তারা নিজেরা বিনিয়োগ করবে। ফলে গ্যাস পাওয়া গেলে পেট্রোবাংলার জোগান বাড়বে।’
দেশে গ্যাসের মোট মজুদ চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুসারে ৭ দশমিক ৬৩ টিসিএফ। তবে উৎপাদনে থাকা গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মজুদের হিসাব ধরলে জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ দশমিক ৩২ টিসিএফ। বিগত পাঁচ মাসে যে পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে তাতে উৎপাদনরত গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মজুদ ছয় টিসিএফে নেমে এসেছে।
সিসিডিসি এরই মধ্যে গ্যাস অনুসন্ধানে দুটি কূপ খননে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। গত বছরের আগস্টে করা চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ক্ষেত্রে দুটি কূপ খনন করবে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ও জোগানে বর্তমানে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয় রেশনিং করে গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিত্যক্ত গ্যাস কূপ খননে কোনো কোম্পানি নিজেদের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালে সেটা ইতিবাচকভাবে নেয়া উচিত। দেশে গ্যাস সংকট প্রকট। এ পরিস্থিতিতে পরিত্যক্ত গ্যাস ক্ষেত্র বা কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে তা পেট্রোবাংলার সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দেশে বর্তমানে ৫০টি কূপ খননের কাজ করছে পেট্রোবাংলা। এরই মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ খনন করা হলেও সেখান থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস মেলেনি। যে পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক কম গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া নতুন করে আরো ১০০ গ্যাস কূপ খনন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ গ্যাস কূপ ২০২৮ সালের মধ্যে খনন করতে চায় সংস্থাটি। এসব কূপ খননে পেট্রোবাংলার ব্যয় হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।










