চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে ১৭২ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই গুলিবিদ্ধ। এদের মধ্যে তিনজন আইসিইউতে। গতকাল বেলা ১১টার পর থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে নিউমার্কেট এলাকা থেকে আহতাবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাত ৮টা পর্যন্ত চমেকে ১৭২ জন আহতাবস্থায় ভর্তি হয়েছেন। অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এখানে এসেছেন। ১০ বছর বয়সী শাহাদাত নামে এক শিশুসহ তিনজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের বেশির ভাগই ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অধিকাংশই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। অনেকের হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন  রয়েছে।’

সরজমিন নিউমার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। তবে সকাল থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিউ মার্কেট এলাকার দখল নিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও। দুপুর ১২টায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিউমার্কেট এলাকার দখল নেন। পরে তিনপোলের মাথায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালাতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা কাজীরদেউড়ি, লালখান বাজার, টাইগারপাসে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নেন চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নগরীর কাজীরদেউড়ি ও ওয়াসা মোড়ে অবস্থান নেন। বিকাল ৪টার পর সেনাবাহিনীর সঁাজোয়া যান নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেনাবাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে নিউমার্কেট এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও নিউমার্কেট এলাকা থেকে সরে যান।

এদিকে, দুপুরে কাজীরদেউড়িতে বিএনপি অফিসে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তুলেছে মহানগর বিএনপি। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘যেকোনো সংঘাত এড়ানোর জন্য নগর পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।’

বিকাল ৪টায় গতকালের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের কর্মসূচি বিকাল ৪টায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। বীর চট্টলাবাসী আজকে শেষ পর্যন্ত রাজপথ দখলে রেখে বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্ট ছাত্র-জনতার দখলে ছিল। আগামীকাল আবারো দেখা হবে।’