ফরিদপুরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি হলেও সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর ২৫-৩০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিক্রি করে দেন চাষীরা। অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত দামও পান না তারা। তবে এবার পেঁয়াজ সংরক্ষণে নির্মাণ করা হয়েছে বিশেষ ঘর। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে তত্ত্বাবধানে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় ৬৫টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ৩০০ মণ করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। সেখানে ছয়-নয় মাস পেঁয়াজ ভালো থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছর থেকে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সালথায় ৩০টি ও নগরকান্দায় ৩৫টি। প্রতিটি ঘরে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এরই মধ্যে ৬২টি ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দুই-তিন বছর পর পর মেরামত করা হলে ঘরটি ২০-২৫ বছর ব্যবহার করা যাবে। প্রতি পাঁচজন কৃষকের জন্য একটি করে ঘর তৈরি করা হয়েছে।
তবে কৃষকের দাবি, চাষীদের তালিকা করে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হলে তারা উপকৃত হবেন। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদপুরে প্রথম পর্যায়ে ৬৫টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর সফলতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরো মডেল ঘর নির্মাণ করা হবে।’
ঝুনাখালি গ্রামের কৃষক মো. আমজেদ মাতুব্বরের বাড়ির উঠানে এক শতক জমির ওপর টিনের চাল ও বাঁশের বেড়া দিয়ে একটি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ১৫টি পাকা খাম্বার ওপর ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৫ ফুট প্রস্থ ঘরটিতে তিনটি বাঁশের মাচা বানানো হয়েছে। মাচার ওপর পেঁয়াজ ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। ঘরের নিচে আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঘরের গরম বাতাস বের করার জন্য পেছনে দেয়া হয়েছে ছয়টি ফ্যান। ঝড়-বৃষ্টি থেকে পেঁয়াজ রক্ষা করতে চারপাশে রাখা হয়েছে ত্রিপল।
কৃষক আমজেদ মাতুব্বর বলেন, ‘গত বছর ঘরটি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ১৪০ মণ পেঁয়াজ রেখেছিলাম। এর মধ্যে ১৩৫ মণ পেঁয়াজ ভালো ছিল। এবারো পেঁয়াজ রেখেছি। আমার পাশাপাশি প্রতিবেশী সোহেল হোসেন ৫০ মণ ও শিউলি বেগম ৫০ মণ পেঁয়াজ রেখেছেন।’
কৃষক রবিউল শেখ বলেন, ‘প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০০ মণ পেঁয়াজ পাই। তবে এটি পচনশীল। এ কারণে কৃষকের পক্ষে পেঁয়াজ সংরক্ষণ সম্ভব ছিল না। সংরক্ষণের অভাবে অনেক কৃষক অল্প দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতেন। তবে মডেল ঘর পাওয়ার পর কিছুটা চিন্তামুক্ত হয়েছি। যদিও এবারই প্রথম মডেল ঘরে পেঁয়াজ রাখা শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত পেঁয়াজগুলো ভালো রয়েছে।’
ফরিদপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় ৩৫ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৮২ টন। পাঁচ বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজ আবাদ বেড়েছে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪০ হাজার ৪৩৩ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬ টন।










