ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বিস্ফোরিত জাহাজ সাগর নন্দিনী-২ থেকে ডিজেল খালাসের সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় ১১ ঘণ্টা পর গতকাল আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিস্ফোরণে ১২ পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা তদন্তে আন্তঃমন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আলাদা তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শনিবার সাগর নন্দিনী-২ থেকে জ্বালানি তেল খালাসের সময় সাবমারসিবল পাম্প প্রচণ্ড তাপে বিস্ফোরিত হয়ে পুরো জাহাজে আগুন লেগে যায়। ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রাতেই ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সোমবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাজটিতে আবারো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তাদের সহযোগিতা করে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ। গতকাল ভোর ৫টায় আগুন পুরোপুরি নেভে যায়।

কোস্টগার্ড অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. শাফায়েত বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণের সময় কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ছিল ঘটনাস্থলে। বিস্ফোরণ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারছিল না। জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করেছে কোস্টগার্ড।’

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘জাহাজের স্টাফদের অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ঝালকাঠির নৌ-রুট নিরাপদ এবং নৌ-চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

গতকাল বেলা ২টায় ঝালকাঠি পৌর মিনিপার্কে প্রেস ব্রিফিং করেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করার জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজ থেকে প্রায় সাত লাখ লিটার তেল পদ্মা ডিপোয় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। জাহাজের মধ্যে এখন কী পরিমাণ জ্বালানি তেল আছে তা নির্ণয় সম্ভব হয়নি। সুগন্ধ্যা নদীতে একটি নৌ-ফায়ার স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।’