জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর জেরে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর সেবা মাশুল ২৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা)। এক্ষেত্রে সংগঠনটির যুক্তি—খরচ সমন্বয় করতে মাশুল বাড়ানো হয়েছে। গতকাল এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ পদক্ষেপ নিয়েছে বিকডা। চট্টগ্রাম বন্দরের ১ থেকে ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৯টি কনটেইনার ডিপো এ মাশুল আদায় করবে। যদিও ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো বা আইসিডি নীতিমালা অনুযায়ী সেবার মাশুল বাড়াতে হলে কমিটির মাধ্যমে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি ।

বিকডার তথ্য অনুযায়ী, গড়ে ২৩ শতাংশ হারে সেবা মাশুল বাড়ানো হয়েছে মোট পাঁচটি খাতে। এর মধ্যে রয়েছে ডিপো ও বন্দরের মধ্যে কনটেইনার পরিবহন, আমদানি পণ্য কনটেইনার থেকে খালাস, কনটেইনার ওঠানো-নামানো, রফতানি পণ্য কনটেইনারে বোঝাই ও ওজন মাপার মাশুল। আগে ২০ ফুট লম্বা কনটেইনার পরিবহনের মাশুল ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা। এখন ২৬৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের মাশুল ৭ হাজার ৯৩০ থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৭৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এ মাশুলের প্রভাব রফতানিতে ৯০ শতাংশ এবং আমদানিতে ২১ শতাংশ পণ্যে পড়বে। কারণ বর্তমানে রফতানি পণ্যের ৯০ শতাংশ ডিপোর মাধ্যমে কনটেইনারে বোঝাই হয়। আর ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানোর পর ডিপোতে নিয়ে খালাস করতে হয়। এর পরিমাণ মোট আমদানির ২১ শতাংশ।

বিকডার সচিব মো. রহুল আমিন সিকদার এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার ৪ নভেম্বর ডিজেলে দর বাড়ায়। ফলে এদিন থেকেই নতুন মাশুল কার্যকর হবে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে গাড়ি ও যন্ত্রের জ্বালানি খরচ যে বেড়েছে তা সমন্বয় করতে ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করা হয়েছে। এখানে বাড়তি কোনো কিছু করা হয়নি।

পণ্য আমদানি-রফতানিতে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, আইসিডি থেকে পণ্য খালাসে এমনিতে খরচ বেশি লাগে। বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে অতিরিক্ত খরচ দিতে হলে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা হারাবে।

পোশাক রফতানিকারদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, করোনা সংকট কাটিয়ে পোশাক রফতানি বাড়ার বড় সুযোগ আসছে। ক্রয়াদেশ বাড়ছে। এখন অযৌক্তিকভাবে ডিপোর চার্জ বৃদ্ধি বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। এটা কোনোভাবে মানা যায় না। রফতানি খাতকে এ ধরনের পদক্ষেপ পিছিয়ে দেবে। জানুয়ারিতে এমনিতে শ্রমিকদের বেতন বাড়বে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কথা বলে চার্জ বাড়াতে হলে সেটা তারা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে নেবে। কারণ অফডক সেবা বন্দরের পার্ট। আর এটা বন্দরের অত্যাবশ্যকীয় সেবা।

ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বণিক বার্তাকে বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই করে মাশুল বাড়ানো পদক্ষেপটি নেয়া হয়েছে। এটা অযৌক্তিক। বন্দরের পরিবর্তে যেসব আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনারের পরিচালন কাজ ডিপোগুলোয় করা হয়, সেগুলোয় এই বর্ধিত মাশুল কার্যকর হবে। বেসরকারি আইসিডির চার্জ এমনিতে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে অনেক বেশি। বাড়তি ভাড়া কার্যকর হলে আমদানি-রফতানি সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা তৈরি হবে।

চট্টগ্রামে বন্দরের কার্যক্রম সহজ করতে বেসরকারি আইসিডিগুলো স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রামে মোট ১৯টি বেসরকারি আইসিডি রয়েছে। এসব আইসিডি থেকে পোশাক রফতানির প্রায় পুরো পণ্য হ্যান্ডলিং করার পাশাপাশি ৩৭ ধরনের আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়। বেসরকারি আইসিডিগুলোয় নির্দিষ্ট পরিমাণে চার্জ আদায় করে এসব পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে সব ধরনের সেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া, পণ্য খালাস করা, কনটেইনারে বোঝাই করা, ডেলিভারি দেয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম বেসরকারি আইসিডিগুলো থেকে করা হয়।