নারায়ণগঞ্জ
থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ না
আসায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধার উদ্ধারকাজ গতকাল রাত পর্যন্ত শুরু হয়নি। সারা দিনে উদ্ধার হয়েছে একটি ট্রাক। এ নিয়ে দুইদিনে
তিনটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ছয় ট্রাক এখনো
শনাক্ত হয়নি।
গতকাল সকালে উদ্ধারকাজ শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। সকাল ১০টায় নৌবাহিনীর ডুবুরি দল ডুবে যাওয়া ফেরির আশপাশে নিমজ্জিত ট্রাকগুলোর খোঁজে অনুসন্ধান চালায়। এরই মধ্যে ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাটিতে একটি ট্রাকের খোঁজ মিলে। নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের প্রধান শাহপরান ইমন জানান, তাদের ডুবুরি দল ভাটির দিকেও খুঁজে দেখছে। ডুবে থাকা বাকি যে সাতটি ট্রাক আছে সেগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা হচ্ছে।
বেলা ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছায়। পরে ডুবুরি দলের শনাক্ত করা একটি ট্রাক বেলা ৩টার দিকে ট্রাকটিকে ৫ নং ঘাটের পন্টুনে নিয়ে আসে। এ নিয়ে দুইদিনে একটি কাভার্ড ভ্যান ও দুটি ট্রাক উদ্ধার করেছে হামজা ও রুস্তম।
বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এলে ডুবন্ত ফেরিটি উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। এর আগে ডুবে থাকা ট্রাকগুলো অনুসন্ধান করে ওঠানোর কাজ করবে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল। এ কাজে সহায়তা করবে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম।
ঢিলেঢালা উদ্ধারকাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডুবে যাওয়া ট্রাকের মালিক-শ্রমিকরা। ভুট্টা বহনকারী দুটি ট্রাকের মালিক গতকাল দিনভর পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তার দুটি ট্রাকের এখনো হদিস পায়নি ডুবুরি দল। অন্যদিকে তুলাবোঝাই দুটি ট্রাকের মালিক মিজানুর রহমান জানান, তার ট্রাকগুলো উদ্ধার হলেও মালপত্র একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। ট্রাক দুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যাবে।
দুর্ঘটনার দুইদিন পার হলেও উদ্ধার হয়নি ডুবে যাওয়া ফেরিটি। নিখোঁজ ফেরির ইঞ্জিনের দ্বিতীয় মাস্টার হুমায়ুন কবিরেরও সন্ধান মেলেনি। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, হুমায়ুন কবির ফেরির মধ্যে কোনো এক জায়গায় আটকে থাকতে পারেন। গতকাল বিকালে বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম খালেদ নেওয়াজ জানান, ডুবে যাওয়া ফেরিটি আনুমানিক ২০০-২২০ টন হতে পারে। এটিকে উদ্ধারে আসা জাহাজ হামজা ও রুস্তমের সক্ষমতা ১৩০-১৪০ টন। ফলে এটিকে উদ্ধারকাজ এখনো শুরু হয়নি।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ড. একেএম মতিউর রহমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে রওনা হওয়া উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছার কথা। এর সক্ষমতা ৩০০ টন। প্রত্যয় আসার সঙ্গে সঙ্গে ফেরি উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। তার আগ পর্যন্ত ডুবুরি দলের সদস্যরা নদীর তলদেশে ডুবে থাকা ট্রাকগুলোর অনুসন্ধান করে শনাক্তের চেষ্টা করবেন। শনাক্ত হওয়ার পর পরই উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও হামজা সেগুলো তোলার কাজ চালিয়ে যাবে।’
ফেরি দুর্ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা আক্তার জানান, এরই মধ্যে তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। কমিটি পাঁচদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
ঘন কুয়াশার কারণে মঙ্গলবার রাতে নদীতে নোঙর করে রাখা ছিল ফেরি রজনীগন্ধা। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘাটের কাছাকাছি আসার পর নয়টি ট্রাক নিয়ে ফেরিটি ডুবে যায়। এরপর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা গিয়ে বুধবার পণ্যবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি পণ্যবাহী ট্রাক উদ্ধার করে। গতকাল বিকালে একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক উদ্ধার করে রুস্তম।










