ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণের এ পদক্ষেপকে সবচেয়ে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ইসি ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রবাসী ভোটারদের সঙ্গে এক অনলাইন জুম মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন ইসি সানাউল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সভায় ইসি সানাউল্লাহ জানান, তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই ডাক ছাড়ার কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ নির্বাচন শুরুর ৫৯ দিন আগে থেকেই প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করবে ইসি। দুবাইয়ের মতো কিছু দেশে দেড় মাস আগেই ব্যালট পাঠানো হবে।
তিনি আরো বলেন, ১৮ নভেম্বর পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য একটি অ্যাপ চালু হবে। এরপর অনলাইনে যে ফর্মটি পাওয়া যাবে, সেটি ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হবে। এরপর ভোট দিয়ে নিকটস্থ পোস্ট বক্সে ফেলতে হবে। নির্বাচনের অন্তত ১৭ দিন আগে পোস্টাল ভোট পাঠিয়ে দিতে হবে, না হলে নির্বাচনের পর ভোট পৌঁছাতে পারে—সেক্ষেত্রে ভোটটি গ্রহণ করা যাবে না।
সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হলে কেউ এ পদ্ধতিতে ভোট দিতে পারবেন না। যেদিন প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে, সেদিনই ভোট দিতে হবে—এর আগে নয়। ভোটারদের সেই সময় পর্যন্ত ব্যালট সংরক্ষণ করতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনের এ পদক্ষেপকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার সুযোগ দিচ্ছে ইসি। এ ছাড়া ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এ জন্য ভোটারদের আগে ওই অ্যাপে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপটি উদ্বোধনের পর থেকেই প্রবাসী ভোটাররা নিবন্ধন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা।










