রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনসহ তিন দফা দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে বিভাগের চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে এ ঘোষণা দেন তারা। এরপর তারা বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এর আগে বেলা ১টার দিকে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা। ইন্টার্নশিপ ভাতা চালু ও বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের টেকনিক্যাল ক্যাডার সংযোজন বিষয়টিও তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা অবস্থান নিয়েছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগ চালু করতে দেব না। ২০২৫ সালের নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমরা লক্ষ করেছি, ২০২৩ সালের নিয়োগ সার্কুলারের অর্ডিন্যান্স পরিবর্তন করে কেবল সাইকোলজি বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ সম্প্রতি সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি থেকে কাউকেই নেয়া হয়নি।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জান্নাত জামান বলেন, ‘যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগে নিজ নিজ বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করার পরই আবেদন করতে পারে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমাদের বিভাগেও একই নিয়ম ছিল। কিন্তু বিভাগের সভাপতি হিসেবে মনোবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক আসার পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা অনার্সে তিন মাস ও মাস্টার্সে ছয় মাস ইন্টার্ন করে আসি, যেখানে মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী অনেকেই আসে অ-বিজ্ঞান থেকে।’
শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন আলী বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল যে শুধু চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স করা শিক্ষার্থীরাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন। তবে বিভিন্ন কারণে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু কিছুদিন আগে মনোবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ হলে, সেখানে চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায্য দাবি নিয়ে আমরা আজ এখানে অবস্থান নিয়েছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগ চালু করতে দেব না। দাবি আদায়ের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। যদি এ সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হয়, তাহলে আমরা সম্পূর্ণ শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’










