মাছের ঘের বা পুকুরপাড়ের জমিতে সাধারণত কিছু গাছ লাগানো হলেও ফসল আবাদ খুব একটা হয় না। অধিকাংশ সময় এসব জমি পতিতই থাকে। তবে গোপালগঞ্জে এসব পতিত জমিতেই আবাদ করা হচ্ছে টমেটো। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলার পাঁচ উপজেলায় ঘের বা পুকুরপাড়ের ৯৯৬ হেক্টর জমিতে এ বছর টমেটোর আবাদ হয়েছে, যা থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৮৬৮ টন।

গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘের বা পুকুরপাড়ের ৩০০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। এছাড়া মুকসুদপুরে ২৩, কাশিয়ানীতে ১০৭, কোটালীপাড়ায় ৪৪২ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ১৩৪ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক অপূর্ব বিশ্বাস বলেন, ‘ডিসেম্বরের শুরুতে টমেটো বিক্রি শুরু করেছি। প্রথম দিকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এখন ৫০-৫৫ টাকা বিক্রি করছি।’

ঢাকার কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী দারাশিকো আব্দুল মালেক বলেন, ‘এখানকার টমেটোর রঙ, স্বাদ ও আকার ভালো। তাই পুরো মৌসুম গোপালগঞ্জের টমেটোর ব্যাপক চাহিদা থাকে। একটু বেশি দামে এ টমেটো বিক্রি করা যায়।’

রঘুনাথপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ হালদার বলেন, ‘জেলায় হেক্টরপ্রতি টমেটোর গড় ফলন ধরা হয়েছে ৩৩ টন। কিন্তু রঘুনাথপুরে হেক্টরপ্রতি টমেটো ৩৫ টন পর্যন্ত ফলন দেয়। এ কারণে এ ইউনিয়নের কৃষক টমেটোতে বেশি লাভ পান।’

গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘এ জেলার ঘেরের পাড়ের জমি খুবই উর্বর। তাই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি টমেটো উৎপাদন হয়। কৃষক এখানে একটি হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’