দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কুড়িগ্রামের চিলমারী ইউনিয়ন এবং পাশের অষ্টমীরচর ইউনিয়নের প্রায় আট হাজার পরিবার একই সঙ্গে বসবাস করে আসছে। গত বছরের বন্যায় চিলমারী ইউনিয়নের পশ্চিম তীরের প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি ও ১২৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তবে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে সরকারিভাবে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। তাই আগামী বর্ষায় ভাঙন রোধে তিন কিলোমিটার এলাকায় বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরের শাখাহাতি, বলমন্তিয়ার খাতা, ঢুষমারা ও বিসারপাড়া চরের গ্রাম রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছেন তারা। এ উদ্যোগ নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সকালে এ কাজের উদ্বোধন করেন চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রোকনুজ্জামান শাহীন।

পাড়ের বাসিন্দারা জানান, সরকারিভাবে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় নিজেরাই এ উদ্যোগ নিয়েছেন। বাঁধ নির্মাণ হলে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক, সাতটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হাইস্কুল ও মসজিদসহ কয়েক হাজার ঘরবাড়ি এবং শত শত একর ফসলি জমি।

চিলমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, বারবার ভাঙনের কারণে তারা নিঃস্ব হয়েছেন। সরকারিভাবে নদীভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় এলাকাবাসী এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাঁধ নির্মাণ করছেন।

একই এলাকার আমজাদ হোসেন ও বুলু মিয়া জানান, বাম্বু বান্ডেলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদীভাঙন প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানির গতি পরিবর্তন হবে এবং তারা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

এ ব্যাপারে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ভাঙনের কারণে ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। এখনো চারটি ওয়ার্ড ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে। বাঁশের বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন হলে চিলমারীসহ পাশের অষ্টমীরচর ইউনিয়নের সাত-আট হাজার পরিবার ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে।

চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান শাহীন জানান, ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর ও বাম তীর রক্ষায় স্থায়ী কাজ চললেও চরাঞ্চলের গ্রামগুলো রক্ষায় কোনো প্রকল্প নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ কারণে আগামী বর্ষা মৌসুমে ভাঙন রোধের চেষ্টা হিসেবে বাঁশের বাঁধ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।