লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মহসিন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান, থানা আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মিজান, থানা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রিয়াজ হোসেন জয়সহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আটক করা আওয়ামী লীগ নেতা সফিকুল ইসলাম শিফন খলিফা, ছাত্রলীগ নেতা রিয়াজ হোসেন জয় ও এম সজীবসহ ৪ জনকে দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী।

সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কমিটির পক্ষে বিপক্ষে কাজী সোলাইমান গ্রুপ ও চেয়ারম্যান নুরুল আমিন গ্রুপ মিছিল বের করে। এ সময় চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের আফজাল রোডের মোড়ে দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ উভয়পক্ষকে নিভৃত কেরার চেষ্টা করে। এসময় উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। 

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ডিবি পুলিশের এসআই জাকির হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ থানার এসআই আব্দুর রহিম ও কনস্টেবল মোজাম্মেল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা আকবর হোসেনসহ অন্তত ২০ জন। পরে আহতদের সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) আব্দুর রহিম জানান, বুধবার রাতে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে এজাহার নামীয় ১৫ জনসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ৪ জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটকের পর দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার (ওসি) মো. তহিদুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় দুপক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশের দুইজন এসআইসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। এতে পুলিশ বাদী হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করেন। এতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চলমান কমিটির নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন। একই সময় আহ্বায়ক কমিটির নেতারাও আনন্দ মিছিলের ডাক দেন। যার ফলশ্রুতিতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হন।