ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে অন্তত ২২টি কারখানা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আরো অন্তত ৮ টি পোশাক কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিল্পপুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম। 

জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিকদের দাবির মুখে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, বেড়েছে শ্রমিক অস্থিরতা। এরই ধারাবাহিকতায় শিল্প সুরক্ষায় আশুলিয়ার অন্তত ২২ টি পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০০৬ সালের ১৩ (ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধারায় কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা বন্ধসময়কালীন কোনো বেতন পাবেন না।


সকাল ৮ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত বাইপাল-আবদুল্লাহ্পুর সড়কের বাইপাইল থেকে জিরাবো, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক, ও বিশমাইল জিরাবো সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনন্ত, মেডলার, শারমিন গ্রুপ, ডেকো, এস টুয়েন টি ওয়ান, মণ্ডল নীটওয়্যার লিমিটেড, ম্যাংঙ্গো টেক্স, এআর জিন্স, এনভয়, স্টাইলিং গ্রুপ, ভিনটেক্স, ইয়াগী বাংলাদেশ, ক্রস ওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অরোনিমা, ডেবনিয়ার, দি রোজ, জেনারেশন নেক্সট, সিনসিন, ডিসান সোয়েটার ও সিগমা ফ্যাশনসহ আরও বেশকিছু পোশাক কারখানা শ্রম আইন ২০২৬ সালের ১৩(ক) ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে আরো ৮ টি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নিউএইজ, আল মুসলিম, নাসা সুপার কমপ্লান্স, নাসা এ জে সুপার, নাসা বেসিক কমপ্লেক্স ও জণরণ সোয়েটারের উৎপাদন চলছে বলে জানা গেছে।

পোশাক শ্রমিকরা জানায়, সকালে কারখানায় প্রবেশ করে কার্ড পাঞ্চ করে বাসায় চলে যেতো শ্রমিকরা। কিন্তু আজ বেশির ভাগ ফ্যাক্টরি ১৩(ক) ধারায় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরা কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে বাসায় ফিরে গেছেন। অনেকে আবার অনেক জায়গায় অবস্থান করছেন, পরিস্থিতি দেখছেন। 

শিল্প পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির মুখে মালিকপক্ষ আলোচনা করলেও কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যেতে পারে নি। ফলে আজ সেসব কারখানা ১৩(ক) ধারায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছ কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শক্ত অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, জেলা পুলিশ ও শিল্পপুলিশ। 

শিল্পপুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, সকাল ১০ টা পর্যন্ত প্রায় ২২ টি কারখানা ১৩(ক) ধারায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আরও ৮ টি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এখনও ঘটে নি৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যৌথবাহিনী।