ঝিনাইদহে এ বছর পাটের সোনালি আঁশ ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত কৃষক। পুকুর, জলাশয়, খালবিল আর জিকে সেচ খালে পানি না থাকায় পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। বাড়তি টাকা খরচ করে পুকুর বা জলাশয়ে সেচ দিয়ে অনেকে পাট জাগ দিচ্ছেন। 

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় ২২ হাজার ৫২৪ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও পানি না থাকায় অনেকেই পাট জাগ দিতে পারছেন না। তাই জমি থেকে পাট কাটছেন না।

শৈলকুপা উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘গত বছর পানির কারণে পাট নিয়ে খুব ঝামেলায় ছিলাম। একটা পুকুরে জাগ দিয়ে পানি দিতে দিতে অনেক খরচ হয়ে গেছিল। তাই ওই ঝামেলা করব না বলে এবার আর পাট আবাদ করিনি।’

ফুলহরি গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের মাঠে এবার প্রচুর পাটের আবাদ হয়েছে। কিন্তু পাট জাগ দেয়ার কোনো জায়গা নেই। পুকুরে পানি নেই। ক্যানেলে পানি দিত কিন্তু এখন ক্যানেলেও পানি দেয়নি। কী করে মাঠ থেকে পাট কাটব। তাই বৃষ্টির আশায় বসে আছি।’

উপজেলার মদনডাঙ্গা এলাকার কৃষক সমসের আলী বলেন, ‘জিকে ক্যানেলে পানি দিয়ে এই এলাকার হাজার হাজার কৃষক পাট পচাতে পারতেন। পানি থাকলে পাটের রঙ ভালো হয়। দামও ভালো পাওয়া যায়। এ বছর যে বৃষ্টি হয়েছে তাতে পুকুর, জলাশয় কোথাও পানি হয়নি। এখন কৃষক পাট জাগ দেবে এমন পানিও পাচ্ছেন না। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্যানেলে পানি দিত তাহলে এলাকার কৃষকের খুবই উপহার হতো।’

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপ্রধান সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালেব বলেন, ‘জিকে সেচ খালের মেইন ক্যানেল যেটা কুষ্টিয়া হয়ে মাগুরার দিকে গেছে সেই খালে পানি দেয়া আছে। বাকি আলমডাঙ্গা খালসহ অন্যান্য খালে পানি সরবরাহ করার জন্য আমাদের কাজ চলছে। এ সপ্তাহের মধ্যে আশা করি পানি দিতে পারব। পানি দেয়া হলে কৃষকের সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হবে।’