মিরসরাইয়ে চলতি বছর আমন আবাদে কৃষি অধিদপ্তরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫০ হেক্টর কম জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। ফলে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোয় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারণে আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে চলতি বছর প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আবাদ হয়েছে ধুম ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নে চলতি বছর প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের পূর্ব হিঙ্গুলী গ্রামের কৃষক অরুণ চৌধুরী জানান, তিনি বর্গা জমি চাষ করেন। প্রত্যেক বছর আমন চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কিছু ধান বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু চলতি বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বেশি দামে সেচ দিয়ে আমন চাষ করতে পারেননি তিনি। ফলে পরিবারের চার সদস্যের জন্য বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হবে। শুধু অরুণ চৌধুরী নন, এমন অনেক কৃষক রয়েছেন যারা আমন ধান ঘরে তুলে পুরো বছরের জন্য খোরাকি রেখে বাকিটা বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু চলতি বছর আমন চাষ কম হওয়ায় অনেক কৃষক বাজার থেকে চাল কিনতে বাধ্য হবেন। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচও। ফলে অনেক কৃষক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন চাষ করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিঙ্গুলী ইউনিয়নের নিমতলা এলাকার এক ট্রাক্টর মালিক জানান, আগে প্রতি একর জমি একবার চাষ দিতে তারা ১ হাজার ৫০০-১ হাজা ৮০০ টাকা পর্যন্ত নিতেন। এখন এক একর জমি একবার চাষ দিতে কমপক্ষে ৩-৪ হাজার টাকা নিতে হয়েছে।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ নাহা জানান, ভরা মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষাবাদে কৃষকের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর প্রায় ৮৫০ হেক্টর কম জমিতে আমন চাষ হয়েছে।










