গ্রীষ্মের আগেই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। নদের তলদেশে পলি জমায় কমে গেছে পানিপ্রবাহ। বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি নৌ চ্যানেল। নাব্য সংকটের কারণে অনেকটা পথ ঘুরে চলাচল করছে নৌযান। এতে নৌপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাইবান্ধার চারটি উপজেলায় ১৬৫টি চর রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য সংকটের কারণে অনেক স্থানেই বন্ধ হয়ে গেছে নদীতীরের ঘাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। উপার্জন কমেছে মাঝি-মাল্লাসহ নদের ওপর নির্ভরশীল মানুষের।
ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নৌপথ দিয়ে চরাঞ্চলে উৎপাদিত বাদাম, ভুট্টা, পাট, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। জামালপুরের ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও উলিপুরের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী নৌঘাট। ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে ছিল অনেক ছোট-বড় নদ-নদীর সংযোগ। ফলে খুব সহজেই মালবাহী নৌযান এসে ভিড়ত ঘাটে। শীতের শুরু থেকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বালুচর জেগে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে বেশকিছু নৌপথ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ফুলছড়ি-বালাসী, তিস্তামুখঘাট-বাহাদুরাবাদ, গজারিয়া-গলনা, হাজিরহাট, সিংড়িয়া-ঝানঝাইর, গুনভরি-কালাসোনা ও গজারিয়া-ফুলছড়ি রুটে নাব্য সংকটে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া আন্তঃজেলা নৌ-রুট ফুলছড়িঘাট-গুঠাইল, সৈয়দপুর-রাজিবপুর, তিস্তামুখ ঘাট-আমতলী এবং তিস্তামুখ ঘাট-সারিয়াকান্দি রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নাব্য সংকটের কারণে অনেক পথ ঘুরে নৌযান চলাচল করছে।
বালাসীঘাট এলাকার শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তিস্তামুখ ঘাট থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে নৌকায় প্রতিদিন কৃষিসহ বিভিন্ন পণ্য আনানেয়া করা হতো। কিন্তু নদে পানি না থাকায় এখন সড়ক পথে বেশি খরচ দিয়ে সেসব পণ্য আনানেয়া করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শহিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে।’









