ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, ‘সমাজে রোকেয়া আজও অবরোধবাসিনী। আবেদনের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ভেতর থেকে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য চার দেয়ালের বাইরে আনতে কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়নি।’

গতকাল দুপুরে দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘নারী সমাবেশ এবং ভূমিতে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. রোবায়েত বলেন, ‘সন্তানের পরিচয় দিতে বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করতে এক হাজার বছর লেগেছে। ১৯৯৬ সালে যেটি সম্ভব হয়েছে। অথচ সন্তান ধারণ, প্রসব, লালন-পালন সব কাজে একজন পুরুষের চেয়ে নারীর অবদান ৯৯ ভাগ বেশি।’

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, ‘বাংলাদেশ “‍মুসলিম পুরুষ ও ধনিক শ্রেণীর রাষ্ট্র” হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ সদস্যদের দিকে তাকালে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। খোদ রাষ্ট্রের মাথা ভরা পুরুষতন্ত্র। রাষ্ট্র একটি পুরুষতন্ত্রের যন্ত্র মাত্র। রাষ্ট্রের কোনো ভূমি বণ্টন আইন ও অধিকারে নারীর অধিকার নেই। পরিবারে একজন সক্ষম পুত্র সন্তান থাকলে আমি নারী খাসজমি বন্দোবস্ত পাব।’

জন নারী ঐক্য পরিষদ দিনাজপুরের সভাপতি শাহানা বেগমের সভাপতিত্বে সমাবেশে সূচনা বক্তব্য রাখেন এএলআরডির উপনির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মণি। সমাবেশের বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন সিএফকের ফ্রিল্যান্স গবেষক ও সমন্বয়কারী গাজী মো. সোহরাওয়ার্দী।