দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আড়াই লাখের বেশি (২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী) মানুষের বাস। বিপুল এ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসক সংকট। ১৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর অধিকাংশ পদই রয়েছে শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও তারা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না।
হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসক সংকটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে একমাত্র চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি। মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তি বেড়েছে রোগী ও স্বজনদের। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলার পরও সমাধান হচ্ছে না।
মঙ্গলবার বিকালে রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন আব্দুল গফুর। ভর্তি করার পরও চিকিৎসকের দেখা পাননি তিনি। আব্দুল গফুর বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা হাসপাতালে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন।’
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রেহেনা আকতার বলেন, ‘আমরা হাসপাতালে আসি চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এখানে একে তো চিকিৎসক সংকট, তার ওপর নারী চিকিৎসক নেই। আমাদের অনেক সমস্যা থাকে, যেগুলো পুরুষ চিকিৎসককে বলা সম্ভব হয় না। যদি নারী চিকিৎসক থাকতেন আমাদের জন্য ভালো হতো।’
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা নার্গিস আকতার বলেন, ‘আমার সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছে। মঙ্গলবার ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন চিকিৎসক আসেননি, এজন্য রিলিজ দেয়নি।’
জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘শুধু সকাল বেলা চিকিৎসক আসেন। তারপর আর সারা দিনে আসেন না।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন হাসপাতালটিতে। ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ রয়েছে। এক্স-রে মেশিনও বন্ধ। হাসপাতালটিতে ১১ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন। এছাড়া ছয়জন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন একজন। হাসপাতালটিতে চতুর্থ শ্রেণীর অধিকাংশ পদই শূন্য। এতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মুকছিদ বলেন, ‘জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও আমিসহ দুজন চিকিৎসক হাসপাতালটিতে কর্মরত রয়েছি। চিকিৎসক সংকটের কারণে আমার একার পক্ষে ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহজুড়ে সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। জরুরি রোগী, আবার ইনডোরে ভর্তি রোগী—সবই সামলাতে হচ্ছে। যেটা অসম্ভব একটা ব্যাপার। তার পরও সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোলাইমান হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন মেডিকেল অফিসার ও ছয়জন কনসালট্যান্ট থাকার কথা। সেখানে বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন কনসালট্যান্ট দিয়ে পুরো হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এর পরও আরো বেশকিছু সংখ্যক স্টাফের পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সেবা রয়েছে সেগুলোও দিতে পারছি না। চিকিৎসক সংকটে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক ও কনসালট্যান্ট নিয়োগ হলে পুরো হাসপাতালের যে কার্যক্রম, সেটি চালু করা সম্ভব হবে।’










