জ্বালানি সংকটে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা চালু রাখতে সব স্টেকহোল্ডার ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বুধবার ও বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি সভা করবে বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ খাতের অংশীজনদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিটিআরসি থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

টেলিযোগযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি জানিয়েছে, বৈশ্বিক জালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগ সেবা নিশ্চিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডাটা সেন্টার ও কোর নেটওয়ার্ক সাইটগুলোয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও লোডশেডিং মুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জোরদার করেছে বিটিআরসি।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১২ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠায় বিটিআরসি। ওই চিঠির গুরুত্ব বিবেচনায় গত ১৩ মার্চ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সকল জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠি দেয়। এছাড়াও গত ২০ এপ্রিল মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানির জ্বালানি পরিবহন এবং টাওয়ার সাইটের রক্ষণাবেক্ষণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য বিটিআরসি থেকে পুনরায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।

টেলিকম স্টেকহোল্ডারদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে টেলিকম নেটওয়ার্ক সচল রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতের বিষয়ে আগামী ২২ এপ্রিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, মোবাইল অপারেটর, এনটিটিএন অপারেটর, টাওয়ারকো অপারেটর এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশের (এমটব) সঙ্গে বিটিআরসির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, পিজিসিবি, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিসমূহ এবং টেলিকম সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে আরেকটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংকটজনিত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে গেল ১৮ এপ্রিল সারা দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করে বিটিআরসিকে চিঠি দেন এমটব। চিঠিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক অপারেটররা। চিঠিতে অপারেটররা সর্তক করে জানায়, টেলিকম সেবা বিঘ্নিত হলে জরুরি সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, আইনশৃঙ্খলা, টাকা লেনদেন, অনলাইনে সরকারি কাজ ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬০ লাখ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। বর্তমানে দেশব্যাপী মোট ৪৬ হাজার ১৭৬টি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে। সারাদেশে টাওয়ার কোম্পানি ও মোবাইল অপারেটরদের মোট ৯৮ হাজার ৫১৪টি বেইজ ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) চালু রয়েছে, যার মধ্যে ২জি ৪৮ হাজার ৪০৬টি, ৩জি ১ হাজার ৪৭টি এবং ৪জি ৪৮ হাজার ৬৩০টি।