সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা একীভূত করার লক্ষ্যে মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় শহরের অদূরে তালতলা এলাকায় সোনার বাংলা কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাস খুলনা অঞ্চলের ডিআরআর এবং সিসিএ প্রকল্পের আওতায় এ সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, বন্যা এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো পুনরাবৃত্তিমূলক দুর্যোগের শিকার। এসব বিপর্যয় হাজার হাজার মানুষকে নগর বস্তিতে পাড়ি দিতে বাধ্য করছে। যেখানে তারা নতুন সংকটে পড়ছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব ও অনিরাপদ বাসস্থানের কারণে সামাজিক সুরক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইদুর রহমান। কারিতাস খুলনা অঞ্চলের ডিআরআর প্রকল্পের সমন্বয়কারী ইব্রাহিম হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার। সভায় মূল বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিতাস কর্মকর্তা কামাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এখন একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। এ জনগোষ্ঠীকে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে পারি।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রুহুল কুদ্দুস, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, ফারুক মাহবুবুর রহমান, মো. আবু সাইদ বিশ্বাস, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, মুহা. জিল্লুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, এসএম রিজাউল করিম, আমিরুজ্জামান বাবু, ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ। তারা বলেন, বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো মূলত স্থায়ী জনগোষ্ঠীর জন্য পরিকল্পিত এবং এগুলো ভ্রাম্যমাণ বা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদা মেটাতে অপ্রতুল। উদ্ভাবনী, অভিঘাত সহনশীল এবং নীতিগতভাবে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা। এছাড়া অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গৃহহীনদের বাসস্থানের সুবিধা নিশ্চিত করাসহ টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন বক্তারা।










