দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিভাগ খোলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। তবে সে নিয়ম মানেনি সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করছে তারা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউজিসির অনুমোদন নিয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়েছে।

আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন বিভাগ বা ইনস্টিটিউট খোলার চূড়ান্ত অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান হবে ইউজিসি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন বিভাগ খোলার জন্য ইউজিসিতে লিখিত আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদনের পর এ বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেয় ইউজিসি। ওই কমিটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো পরিদর্শন করে। পাশাপাশি তাদের শিক্ষক নিয়োগসহ সার্বিক সক্ষমতা যাচাই করে। কমিটির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সুপারিশ করার পরই নতুন বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় ইউজিসি। পাশাপাশি বিভাগের পাঠ্যসূচির অনুমোদনও ইউজিসি থেকে নিতে হয়। ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কোনো প্রোগ্রাম বা বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি বা বিজ্ঞাপন প্রকাশ আইনসম্মত নয়।

তবে ইউজিসির কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বিএসসি ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। তারা যে এখনো অনুমোদন পায়নি তা নিশ্চিত করেছেন ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক মো. ওমর ফারুখ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বিএসসি ইন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। এর আলোকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রোগ্রামের জন্য তৈরি করা ল্যাবও পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রোগ্রামটির জন্য অনুমোদন দেয়া হয়নি। আইন অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদনের আগে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্বশীল পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউজিসির অনুমোদন নিয়েই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন বণিক বার্তাকে বলেন, ইউজিসি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের অনুমোদন দিয়েছে বলেই আমি জানি। সে আলোকেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।

রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ এফআর কবিরও ইউজিসির অনুমোদন নিয়েই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ইউজিসির ওয়েবসাইটেও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম অনুমোদনের তথ্য আপডেট করা হয়েছে।

তবে গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউজিসির ওয়েবসাইটে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক কোনো প্রোগ্রাম অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি। সাধারণত অনুমোদিত প্রোগ্রামের নাম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রোফাইলে নিয়মিত হালনাগাদ করে ইউজিসি।

কেবল অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনাই নয়, অনুমোদিত প্রোগ্রামগুলোর সিলেবাস হালনাগাদ না করার অভিযোগও রয়েছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রাম অনুমোদনের সময় শর্ত দেয়া হয় যে চার বছর পরপর এর সিলেবাস হালনাগাদ করতে হবে। যদিও কমিশনের দেয়া এ শর্ত মানছে না বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইউজিসির তথ্যমতে, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা মিলিয়ে মোট ১৪টি অনুমোদিত প্রোগ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি প্রোগ্রামই পরিচালিত হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলেবাসে। এর মধ্যে কয়েকটি সিলেবাসের মেয়াদ পার হয়েছে এক যুগ আগে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, আইন অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রোগ্রাম ও কোর্সগুলোর সিলেবাসের অনুমোদন ইউজিসি থেকে নিতে হয়। এক্ষেত্রে তাদের সিলেবাস অনুমোদনের মেয়াদ থাকে চার বছর। এরপর সেটি হালনাগাদ করে পুনরায় অনুমোদন করে নেয়া নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। যদিও বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে মেয়াদোত্তীর্ণ সিলেবাস দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। অনেক সময় সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রোগ্রামের অনুমোদনের আগেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সনদের বৈধতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা যেন জটিলতার মধ্যে না পড়েন সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত নিয়ম অনুযায়ী পথ চলা।