রাজবাড়ী জেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা, গড়াই, চিত্রা, চন্দনা, হড়াই, মরাকুমার, যমুনা, হাজরাখালি ও সিরাজপুরসহ ছোট-বড় নয়টি নদী। এর মধ্যে পদ্মা, যমুনা ও গড়াই বড়, বাকি ছয়টি নদী ছোট। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য বলছে, পানির স্তর নেমে যাওয়ায় জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা ও যমুনা ছাড়া সাতটি নদীতে পানি নেই। যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবন ও কৃষিকাজে। তবে গড়াই নদের কিছু অংশে সামান্য পানি থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
চাষীরা বলছেন, রাজবাড়ীতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলায় পাঁচটি উপজেলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি উপজেলার বেশির ভাগ নলকূপে উঠছে না পানি। ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম। শঙ্কা দেখা দিয়েছে পাটসহ কৃষিপণের উৎপাদন নিয়েও।
অবশ্য এ অবস্থার জন্য অতিরিক্ত সেচকে দুষছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। আর পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় শুকিয়ে গেছে ছোট নদীগুলো। যদিও পানির প্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাউবো কর্মকর্তারা দিতে পারেননি।
পানি সংকটের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু জাকারিয়া বণিক বার্তা বলেন, ‘অতিরিক্ত সেচ দেয়ার ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে সুপেয় পানির সংকট দূর করতে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ১২টি করে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগে স্থাপন করা গভীর নলকূপগুলোও তদারকি করা হচ্ছে। আপাতত যেখানে গভীর নলকূপ রয়েছে, সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
জেলার কয়েকটি অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই রয়েছে পানির সংকট। জেলার কালুখালী উপজেলার মদাপুর, দামুকদিয়া, হরিণবাদিয়া, চরআফড়াসহ বেশির ভাগ গ্রামের নলকূপে পানি উঠছে না। যে বাড়িতে সামান্য পানি পাওয়া যাচ্ছে, প্রতিবেশীর সেই বাড়ি থেকে বালতি ভরে পানি এনেই চলছে গ্রামবাসীর দৈনন্দিন কাজ। একই অবস্থা সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
কালুখালী উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের মদাপুর গ্রামের গৃহিণী আলেয়া বেগম বলেন, ‘প্রায় দুই মাস ধরে আমাদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ৫০টি বাড়ির নলকূপে পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। অনেক চেষ্টার পর সামান্য পানি মিলছে। এ অবস্থায় গোসল, কাপড় ধোয়া, খাওয়া-দাওয়াসহ সব কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। পানির কষ্ট বলে বোঝানো যাবে না।’
এ ব্যাপারে পাউবো রাজবাড়ীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমএ শামীম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজবাড়ীর ছোট-বড় নয়টি নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে কৃষিতে সেচ সংকট নিরসন হবে। পদ্মা, গড়াইসহ জেলায় নয়টি নদ-নদী রয়েছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পদ্মা ও যমুনা ছাড়া ছোট নদ-নদীগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে।’ তবে সংকট সমাধানের জন্য ছোট নদ-নদীগুলো খনন বা কোনো উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে কিছুই জানাতে রাজি হননি এ কর্মকর্তা।










