প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশবাসীকে অধিক পরিমাণে গাছ লাগিয়ে ‘সবুজ
বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বাসস।
তিনি বলেন, ‘সবুজ বাংলাদেশ গড়তে সারা দেশে আমাদের সাধ্যমতো গাছ লাগাতে
হবে।’
শনিবার (১৫ জুন) গণভবনে আষাঢ় মাসের প্রথম দিনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের
তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরকার প্রধান বলেন, কৃষক ও কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। সেক্ষেত্রে
কৃষক লীগের দায়িত্ব অনেক বেশি।
শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় চাহিদা। তাই এ খাদ্যের
জন্য কারো কাছে যেন হাত পাততে না হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ুর অভিঘাত থেকে
দেশকে রক্ষা করা। যদিও জলবায়ুর ক্ষতি সাধনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু বাংলাদেশ এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত।
সে দিকে লক্ষ্য রেখেই দক্ষিণাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নের কর্মসূচি নিয়ে আমরা ওই অঞ্চলের
মানুষকে সুরক্ষিত করেছি এবং এটা আরো সুন্দরভাবে করতে হবে।
তিনি বলেন, গাছ আমাদের প্রাণ, এটি আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন
দেয়। কাজেই আমরা যত বেশি বৃক্ষ লাগাতে পারব-এটি আপনাকে ফল দেবে, খাদ্য দেবে আবার অর্থ
উপার্জনের পথও সুগম করবে।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে একটি করে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ
করে বলেন, এভাবে আমাদের দেশকে যদি আমরা সবসময় সবুজ করে রাখতে পারি তাহলে বাংলাদেশ আর
পিছিয়ে থাকবে না। সেজন্য আমাদের সবাইকে এভাবেই চিন্তা করতে হবে। তবে একটা জিনিসের প্রতি
লক্ষ্য রাখতে হবে ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, গ্রামে আমাদের বহু জায়গা আছে। বেশি করে নদীর পাড়,
যেসব এলাকায় ভাঙন হতে পারে সেসব জায়গায় বড় শিকড় সমৃদ্ধ মাটি কামড়ে ধরে রাখার মতো গাছ,
উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে গাছ লাগাতে হবে এবং বাড়ির চারপাশ এবং ছাদে ছাদ বাগান করতে হবে।
তিনি বলেন, বহুতল ভবন আর উন্নয়নের নামে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে শুরু
করে গুলশান-বনানী এলাকায় অতীতে যেসব বড় বড় গাছ ছিল সেগুলো সবই উজাড় হয়েছে। ফলে আগে
যে সবুজ ছিল সেটা এখন আর নেই। এখন অবশ্য ছাদ বাগান হচ্ছে, সবাই এদিকে ঝুঁকছে। সেটাও
করতে পারেন সবাই। এতে বাড়িটাও ঠাণ্ডা থাকবে তেমনি নিজের হাতে বাগান করে নিজের গাছের
তরিতরকারি খাওয়ার স্বাদই আলাদা।
কর্মসূচি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন।
তিনি বলেন, ’৯৬ সালে সরকারে আসার পর তিনি গণভবনে দুই হাজারের মতো
গাছ লাগিয়েছিলেন। এর আগের গাছগুলো জাতির পিতার হাতে লাগানো। এরপর আমরা বিভিন্ন ধরনের
ফলের গাছ লাগাই এবং লাগাচ্ছি এবং এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করে দেখছি ভালোই হয়।
হাঁস-মুরগি-গরু-ছাগল সবই আছে আমাদের।
সরকার প্রধান বলেন, ‘এখন গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং
একই সঙ্গে একটি খামার বাড়িতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি সবাইকে আগাম ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে যত্রতত্র কোরবানির পশু
জবাই করে জায়গা যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য
রাখার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের আবাসস্থল এবং এর চারপাশে নিজেদেরই নজরদারি রাখতে
হবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত
সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।
কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীমা শাহরিয়ার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা
করেন।










