তবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মূল্যায়ন পরীক্ষা না হওয়ায় সনদ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। চার মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষা না হওয়া, পঞ্চগড় ছেড়ে রংপুরে গিয়ে পরীক্ষার নির্দেশনা ও অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না পাওয়ার অজুহাত দিলেও দ্রুত স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

গতকাল সরজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। তারা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হওয়া প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকেই এখনো এনএসডিএর অধীনে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে একের পর এক ব্যাচে পাঁচটি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও শেষে সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি এনএসডিএর অধীনে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার কথা থাকলেও চার মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এখনো পরীক্ষা না হওয়ায় সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না তারা। এছাড়া ঠিকমতো তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। তবে কী খাতে এসব টাকা নেয়া হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট না পাওয়ায় ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ও দক্ষতার স্বীকৃতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করে যোগ্য প্রশিক্ষণার্থীদের সার্টিফিকেট দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে ভর্তি হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে মূল্যায়ন পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চার মাস পার হয়ে গেলেও এখনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। কবে পরীক্ষা হবে, সেটিও আমাদের স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না।’

আরেক প্রশিক্ষণার্থী বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন পরীক্ষা না হলে সার্টিফিকেট পাব কীভাবে? সম্প্রতি পরীক্ষার একটি তারিখ দেয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু পঞ্চগড় থেকে রংপুরে গিয়ে পরীক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমাদের কয়েকজনের নাম পরীক্ষার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মানব সম্পদ উন্নয়ন তহবিল), প্রশাসন-১ মহিন উদ্দিন বাহার বলেন, ‘পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু কখনো কেন পরীক্ষা নেয়া হয়নি, বিষয়টি দেখতে হবে।’ তিনি দাবি করেন, যারা আবেদন করেছেন, তাদের সবাইকে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। তারা হয়তো আবেদন করেননি।

অ্যাসেট প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক-১ প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত বলেন, ‘আমাদের নাম করে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। জামানত নেয়ারও সুযোগ নেই। আমাদের অধীনে ২৪ জনের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৯ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং কমপক্ষে ১৪ জনের বেশি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এরপর মূল্যায়ন হবে। তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানে আমাদের অ্যাসেট প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা দেয়া হবে। এ প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত কিনা দেখতে হবে।’

প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চগড় স্কিল ডেভেলপমেন্ট একাডেমির সোমা আক্তার বলেন, ‘আমরা এখনো পরীক্ষার অনুমতি পাইনি। এজন্যই পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হয়নি। শিগগিরই রংপুরে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভীন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অ্যাসেট প্রকল্পটি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।